আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খোরদ গ্রামে ইউডিএফ প্রকল্পের আওতায় রাস্তা নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মের ছবি তুলতে গেলে দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে এবং একজনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রায় ৮ লাখ টাকার টেন্ডার পায় ‘জাহিদুল এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শুরুর পর থেকেই ২ ও ৩ নম্বর ইট ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। হেরিংবোন প্যাটার্নে রাস্তা নির্মাণকাজ চলাকালে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে।
অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় দৈনিক খাসখবর পত্রিকার সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম চঞ্চল এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল চ্যানেল ডিও-এর সাংবাদিক শামীম রেজাকে ঠিকাদার জাহিদুল ও তার স্বজনরা বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিকরা ছবি তুলতে সক্ষম হলে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং একপর্যায়ে এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ধারণকৃত ছবি মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ঠিকাদারপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে কিছু লোকজনকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। ফলে অনিয়ম দেখেও অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তথ্য সংগ্রহে সরাসরি বাধা দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনা নিন্দনীয় এবং এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে ভাংবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান (সোহান) বলেন, দুই নম্বর ইট ব্যবহারের বিষয়টি আমি দেখেছি। ফোনে জানতে চাইলে ঠিকাদার জানান, ভুল করে কিছু ইট চলে এসেছে। যেহেতু টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ হয়েছে, এরপর আর কিছু জানি না।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, কাজে যদি স্বচ্ছতা ও মান বজায় থাকে, তাহলে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আপত্তির কারণ কী? এলাকাবাসীর দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা আড়াল করতেই এমন আচরণ করা হয়েছে।
খোরদবাসী অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে যথাযথ মান বজায় রেখে রাস্তা নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আকতার বলেন, ইট পরিবর্তন করে দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছি অতিদ্রুত নিম্নমানের ইট গুলো উঠিয়ে নিবে। কিন্তু এলাকাবাসী জানায় ইট উঠানোর কথা বললেও সেখান থেকে কোন ইট উঠানো হয়নি। উল্টো রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে কাজ সম্পন্ন করেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা ঢাকতেই এমন নয়-ছয় করা হচ্ছে। অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিম্নমানের কাজ বন্ধ করে সঠিক মান বজায় রেখে রাস্তা নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।



