জীবননগর অফিস
হাসাদাহে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার আঘাতে নিহত হাফিজুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং দ্রুত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাতে গতকাল বুধবার বিকেল ৪টায় উপজেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর জীবননগর শাখা।
সম্মেলনে জানান, গত ২৮ শে ফেব্রুয়ারি হাসাদহ বাজারে জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিনা উস্কানিতে জীবননগর থানাধীন হাসাদহ বাজারস্থ হাসাদহ কামিল মাদ্রাসার সামনের রাস্তার উপর পৌছানো মাত্রই বিএনপি’র উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন ময়েনের। নির্দেশে হাসাদহ ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মেহেদী পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক পূর্ণশক্রতার জের ধরে খুল করার উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন আমীর মাওলানা মফিজুর রহমান ও তার সাথে থাকা আপন ভাই হাফিজুর রহমান, ভাতিজা মাহফুজসহ রামদা, চাইনিজ কুড়াল, রড, জি-আই পাইপ, হকস্টিক সহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এই সন্ত্রাসী হামলায় তারা গুরুত্বর আহত হয়, পরে স্থানীয় লোকজন ও জমায়াত কর্মীর তাদেরকে উদ্ধার করে জীবননগর উপতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার রোগীর অবস্থা আশংকাজনক দেখে যশোর সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। যশোর থেকে তাদের আবার ঢাকায় মেডিকেলে রেফার্ড করেন। পথিমধ্যে মোঃ হাফিজুর রহমান মারা যান।
এর আগে হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্ববায়ক মেহেদী হাসান সুটিয়া গিয়ে নগ্ন অস্ত্র (চাইনিজ কুড়াল) নিয়ে জামায়াতের কর্মীদের। বাড়ির সামনে গিয়ে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এমতবস্থায় গ্রামবাসী মেহেদীকে অস্ত্রসহ ধরে উত্তম মাধ্যম দিয়ে অস্ত্রসহ পুলিশে সোর্পদ করেন। পুলিশ প্রশাসন কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাকে ছেড়ে দেন পুলিশের এহেন কর্মকাণ্ডে মেহেদী আরো বেপরোয়া হয়ে ২৮ শে ফেব্রুয়ারী ইফতারের আগ মূহুর্তে সৃটিয়া গ্রামের জামায়াত কর্মী খাইরুল ইসলাম হাসাদহ সাপ্তাহিক হাটে পারিবারিক বাজার-সদায় শেষে বাসায় ফেরার পথে মটরসাইকেল থেকে নামিয়ে হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন এবং আরো হুমকি ধামকি দেয় যে, সুটিয়া গ্রামের কাউকে হাসাদহ বাজারে পেলে কুপানো হবে। তারই জের ধরে এই বর্বোচিত হামলায় বাঁকা ইউনিয়ন আমীর মো: মফিজুর রহমান ও তার ভাই জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান ও ভাতিজা মো: মাহফুজ কে উপর্যপুরী কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাথা ফাটিয়ে হাত, পা ভেঙ্গে মৃত প্রায় এমন অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যাই। এ সময় পথচারী ও স্থানীয় জামায়াতের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলে উপজেলা বি এন পি’র যুগ্ম সম্পাদক ও যুবদলের আহ্ববায়ক মঈন উদ্দিন ময়েন এর নেতৃত্বে তার মালিকানাধীন গাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র-সন্ত্র বের করে হুমকি প্রদান করেন। হাসপাতালে রোগির সাথে সুটিয়া গ্রামের ও জামায়াত কর্মীরা বেশি থাকায় ময়েন ও তার সঙ্গে। পাঙ্গরা হাসপাতাল ছেড়ে আবার হাসাদহ বাজারে যেয়ে অন্ত্রের মহড়া দেন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, ইফতাবের পর পরই জীবননগর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া সত্ত্বেও তারা অহেতুক কালক্ষেপন করেন যার ফলশ্রুতিতে বি এন পি’র সন্ত্রাসীরা এ ধরনরে হামলার সুযোগ পায়। আমরা মনে করি পুলিশ যথা সময়ে পদক্ষেপ নিলে সন্ত্রাসীরা এ বর্বর হামলার সাহস পেত না।
এই ঘটনায় বি এন পি সহ তার অঙ্গসংগঠন বেশ কয়েকটি মিডিয়ায় ও আজ বুধবার দুপুর ১২ টায় সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা ইসরাইল হোসেন কে দোষারোপ করার চেষ্টা করছে কিন্তু উক্ত ঘটনায় তার কোন সম্পৃক্ততা নাই। এছাড়াও তারা ঘটনাটি ন্নিখাতে প্রভাবিত করার জন্য ব্যক্তিগত জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়াবলী তুলে ধরে মিডিয়া ক্যু করার যড়যন্ত্র করছে। এই হত্যাকাণ্ডের নিহত হাফিজুর রহমানের বড় ভাই মো: আমীর হোসেন জীবননগর থানায় ৮ জনকে আসামীর নাম উল্লেখ করে ও আরও ৮/৯ জনকে অজ্ঞতনামা আসামী করে একটি হত্যামামলা দায়ের করেছেন। আমরা আপনাদের মাধ্যমে এই খুনিদের দ্রুতসময়ে গ্রেপতার করে আইনানুগ সর্ব্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আমির মাওলানা সাজিদুর রহমান, নায়েবে আমির হাফেজ বিল্লাল হোসেন, শাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, উপজেলা আইটি সম্পাদক হারুনুর রশিদ ও পৌর আমির মাওলানা ফিরোজ হোসেন প্রমুখ।
জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমান হত্যার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে জীবননগরে জামায়াতে সংবাদ সম্মেলন



