স্টাফ রিপোর্টার
আলমডাঙ্গার খাদিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাসের পরিষদে দায়িত্ব গ্রহন করা নিয়ে ায়িত্ব গ্রহন করা নিয়ে দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় পরিষদে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ক্ষুব্ধ জনতা। অবরুদ্ধ করে রাখা হয় চেয়ারম্যানকে। পরে চেয়ারম্যান লোটাসের সমর্থকরা হামলাকারীদের ধাওয়া দেয়। পরে হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
অপরদিকে, নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ বিপুল ও কালিদাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আশাদুল হক মিকাকে পরিষদে গেলে তাদেরকেও ধাওয়া দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর খাদিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাসকে সাময়িক অপসারণ করে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেয় জেলা প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন চেয়ারম্যান। রিটে পরিষদে বসার অনুমতি পান ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন লোটাস। স্থানীয় গ্রামবাসী বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিষদে গিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করে চেয়ার-টেবিলে ভাঙচুর চালানো হয়। অবরুদ্ধ করে রাখা হয় চেয়ারম্যানকে। পরে চেয়ারম্যান সমর্থকরাও পরিষদে গিয়ে তাদেরকে ধাওয়া দেন। এসময় হামলাকারীরা চারটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে গেলে সেসবে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
খাদিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লোটাস জোয়ার্দার সাংবাদিকদের বলেন, মহামান্য হাইকোর্টের রায়ে আমি চেয়ারম্যান পদে গত তিন দিন ধরে পরিষদে বসি এবং আমার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করি। কিন্তু আজকে বেলা ১১টার দিকে আমার পরিষদে কতিপয় ব্যক্তি আসে। আসার পরে আমাকে বলে যে আপনি চেয়ার থেকে নেমে যান। তখন আমি বলি যেহেতু আমি ৮ হাজার ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান, আমি চেয়ার থেকে নামব না। তখন তারা আমার সাথে তর্ক-বিতর্ক করে। আমি বলি যে দেখেন আপনারা বসেন কথা বলি। ওরা বসবে না। তারপরে ওখানে আমার বাবা ছিল, উনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। উনি মুরুব্বি মানুষ। উনাকে লাথি মারে তারপর স্টিক দিয়ে পেটায় এবং তারা বাইরে থেকে আমাকে ইউনিয়ন পরিষদের ভেতর আটকে দেয়। পরে তারা আমাকে পেট্রোল দিয়ে পুড়ানোর চেষ্টা করে। পরে এলাকাবাসী ও আমার ইউনিয়নবাসীরা এসে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া দেয় এবং আমাকে রক্ষা করে। পরে পুলিশ এসে আমাকে এখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। সেই সাথে তারা বিগত কয়েকদিন ধরে আমাকে ফোনে হুমকি দিয়ে আসছে। আমি প্রাণভয়ে আমার ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছি না। আমি বর্তমানে আতঙ্কিত হয়েছি। আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
অপরদিকে, একই উপজেলার নাগদাহ ইউপি চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ বিপুল ও কালিদাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আশাদুল হক মিকাকে ধাওয়া দিয়ে পরিষদ থেকে বের করে দিয়েছেন স্থানীয়রা। তারাও নিজ নিজ পরিষদে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। পরে সেখানেও থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ বানী ইসরাইল বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। কাউকে আটক বা জিঞ্জাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়নি। অন্য ইউনিয়নগুলোতে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনা জানার পরপরই পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
খাদিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান লোটাস জোয়ার্দ্দার পরিষদে দায়িত্ব গ্রহন করা নিয়ে দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, মোটরসাইকেল ভাংচুর, পুলিশ মোতায়েন



