চুয়াডাঙ্গায় তরুণী অহনার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষেপরিবারের কাছে হস্তান্তর, থানায় মামলা দায়ের

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা শহরের শেখপাড়ায় ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া তরুণী মুমতাহেনা অহনার  (২২) মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে অহনার মরদেহ তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এসময় অহনার মা বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা দায়ের করেন।
জানা যায়, গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলানি ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের শেখপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে মুমতাহেনা অহনার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত অহনা গোপালগঞ্জ জেলা সদরের কাঠি গ্রামের আনিসুর রহমানের মেয়ে। তিনি চুয়াডাঙ্গা সমবায় নিউ মার্কেট এলাকার ‘রংধনু গিফট গার্ডেন’-এ ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তার মৃত্যুর সময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটে আবেগঘন ভাষায় প্রেমিকের প্রতি ভালোবাসা, সম্পর্ক ভাঙার কষ্ট এবং ব্যক্তিগত জীবনের হতাশার চিত্র তুলে ধরে লেখেন, শ্রাবণ রহমান জিতু আমি তোমাকে অসম্ভব ভাবে ভালোবাসতাম। আমার ভয়াবহ অতীত নিয়েও সত্যিকারের ভালোবাসছিলাম। তোমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমাদের ছোট্ট একটা সংসার হবে। কিভাবে পারলে? একটিবারও আমার কথা মনে পড়লো না? তুমিই আমার শেষ ভালোবাসা। আমার মৃত্যুর দায় শুধু মাত্র শ্রাবণ রহমান জিতু। মৃত্যুর পরও ভালোবাসব। আমার সাথে যা করল সেটা অন্যায়… অহনা ২৯.০৪.২০২৬।  
এদিকে শ্রাবণ রহমান জিতুর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ এলাকায় তাদের পরিচয় হয়। সেখান থেকেই সম্পর্কের সূচনা। তিনি বলেন, “দীর্ঘ পাঁচ মাস আমাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি জানতে পারি, অহনা ধূমপানসহ নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করতো। এছাড়া অন্যান্য কারণে ঈদুল ফিতরের দুদিন পর আমি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি। প্রায় ১৫ দিন আগে সরকারি কলেজের সামনে দেখা হয়েছিল। সে সম্পর্কের কারণ জানতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তাকে ফিরিয়ে দিই। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। তিনি আরও বলেন, সে যে এমন সিদ্ধান্ত নেবে, তা আমি কখনো ভাবিনি। এই কাজটি সে ঠিক করেনি।
জানা গেছে, শ্রাবণ রহমান জিতু আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের কয়রাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এবং দর্শনা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। অহনা ইতোপূর্বে চুয়াডাঙ্গার ঈদগাহ পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ১০-১২ দিন পূর্বে তিনি ওই বাসাটি ছেড়ে চুয়াডাঙ্গা শেখ পাড়ায় নতুন বাসায় ওঠেন। প্রেমের বিচ্ছেদ সইতে না পেরে তিনি এরকম কান্ড ঘটিয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ওয়াহেদ মাহমুদ রবিনের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় অহনার। পরে মরদেহ তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অহনার মা বাদী হয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা দায়ের করেছেন। এর রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের ধরতে ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।