স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সদর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র।
এসময় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উপজেলার মাদক নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং যৌতুক নির্মূলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় জানানো হয়, যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে বিশেষ পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। মাদক কেনাবেচা ও সেবন রোধে নিয়মিত অভিযান জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দ্রব্যমূল্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রথা বন্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে টহল পুলিশি কার্যক্রম বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সকল ইউনিয়ন পর্যায় সক্রিয় আছে বলে নিশ্চিত করা হয়।
সভায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, চুয়াডাঙ্গার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম হয়েছে। বিগত এপ্রিল মাসে আমরা ৩৪ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তাদেরকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয় সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রয়োজন।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম বলেন, চুয়াডাঙ্গাতে শুধু বাল্যবিবাহ নয় সাথে ডিভোর্সের সমস্যাও বিরাট আকার ধারণ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বাল্যবিবাহ নিজের বাড়িতে না হয়ে তার কোন আত্মীয়ের বাড়িতে হয় যে কারণে আমরা সঠিক তথ্য পাইনা। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে মেয়ে বা ছেলে বাল্য বিবাহতে আগ্রহী। এ সকল বাল্যবিবাহতে স্থানীয় অনেক জনপ্রতিনিধিরাও সাপোর্ট করে থাকেন। এমনটা চলতে থাকলে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা একটু কষ্টকর হয়ে যায়। আমরা চাই বাল্যবিবাহের বিষয়ে সকলে যেন আমাদেরকে তথ্য দেন তাহলে আমরা এটি বন্ধ করতে পারব।
সভাপতির বক্তব্যে নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র বলেন, একটি নিরাপদ ও সুন্দর উপজেলা গড়তে হলে মাদক ও বাল্যবিবাহের মতো ব্যাধিগুলো সমাজ থেকে দূর করতে হবে। একটি জরিপ বলছে চুয়াডাঙ্গাতে প্রতি ১০জনের ৭ জনেরই ডিভোর্স হয়ে যায়। এই অতিমাত্রায় বিবাহ বিচ্ছেদ হয় শুধুমাত্র বাল্যবিবাহের কারণে। গ্রাম পর্যায়ে বাল্য বিবাহের খবর আমাদের কাছে তেমন একটা আসে না। তবে যেখান থেকেই আমরা বাল্যবিহার খবর পাই, তৎক্ষণাৎ সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। আমরা বর্তমানে লক্ষ্য করছি, চুয়াডাঙ্গায় আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। এ আত্মহত্যা প্রবণতা কমাতে সকলের মাঝে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। মাদকের বিষয়েও আমরা সোচ্চার রয়েছি। মাদক ক্রয় বিক্রয় ও সেবনের সাথে যারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা শিমুল হাসান, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার আনিসুর রহমান, সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক খন্দকার বারিকুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, চুয়াডাঙ্গা পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মোস্তফা কামাল, ৪ নং শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহিবুল হাসান সুজনসহ বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় নবাগত ইউএনও তিথি মিত্র



