স্টাফ রিপোর্টার
ভেষজ ও সুগন্ধি উদ্ভিদ: স্বাস্থ্য, ঐতিহ্য এবং জীবিকা সুরক্ষা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস ২০২৬। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ এন্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন এবং উপজেলা বন কর্মকর্তা আবু খায়ের আতা এলাহী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক ও সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবীব শিপলু। সঞ্চালনায় ছিলেন গিরিশনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জামাল উদ্দিন।
পরিবেশ রক্ষায় বন্যপ্রাণীর গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাণী হলেও এই গ্রহে মানুষ একা নয়; পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি প্রাণীর রয়েছে অপরিহার্য ভূমিকা। মানুষের লোভ, অসচেতনতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে, যা বাস্তুতন্ত্রের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, একটি প্রাণীর বিলুপ্তি মানে পরিবেশের একটি স্তম্ভ ভেঙে পড়া।” তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ ও ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি সময়ের দাবি।
প্রধান অতিথি আমিনুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, শৈশবে যে পরিমাণ বন্যপ্রাণীর ডাক শোনা যেত, এখন তা আর শোনা যায় না। আমরা বন্যপ্রাণীর ক্ষুদ্র ক্ষতিকে তেমন গুরুত্ব দিই না, কিন্তু তাদের অনুপস্থিতির প্রভাব সুদূরপ্রসারী। জনসচেতনতা বাড়াতে পারলেই বন্যপ্রাণী নিধন, পাচার ও অবৈধ ক্রয়-বিক্রয় অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব।
সভায় সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবীব শিপলু সংগঠনের চলমান কার্যক্রম ও আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক ফারদিন ও জিসানসহ অন্যান্য সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।
র্যালি ও লিফলেট বিতরণ আলোচনা সভা শেষে একটি সচেতনতামূলক র্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য সাহাবুল, নিরব, আলমাছ, রিয়াদ, সতেজ, সুয়াইব, শেখ সাদি, তামিম, পিয়াস, আজমুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ৬৮তম সাধারণ অধিবেশনে ৩ মার্চকে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিশ্বের বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এ দিবসের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ এন্ড নেচার ইনিশিয়েটিভের আয়োজনে এ কর্মসূচি চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবসে চুয়াডাঙ্গায় আলোচনা সভা ও র্যালি



