দলীয় অর্ন্তকোন্দল ও মনোনয়নবিবাদে বিএনপির দূর্গে বিপর্যস্ত মেহেরপুরের দুইটি আসন প্রথমবারের মতো জামায়াতের দখলে

তৌহিদ উদ দৌলা রেজা, মেহেরপুর
খুলনা বিভাগে বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত মেহেরপুর জেলার দুটি আসন। এ দুটি আসনেই এবার বিএনপির সাবেক দুই সংসদ সদস্যকে পরাজিত করে ১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। মেহেরপুর-১ (সদর ও মুজিবনগর) আসনে জামায়াত প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজউদ্দীন খান ও মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য নাজমুল হুদা বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির দলীয় অর্ন্তকোন্দলের ফলেই এ দুটি আসন জামায়াত জোট প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। বে-সরকারী ফলাফলে ৭৩ মেহেরপুর-১ আসনে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজউদ্দীন খান এবং ৭৪ মেহেরপুর-২ গাংনী আসনে জামায়াত নেতা নাজমুল হুদা।
মেহেরপুর-১ আসনে সাবেক এমপি মাসুদ অরুনকে ১৬ হাজার ৬৭৪ ভোটে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজউদ্দীন খান। জামায়াত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২১ হাজার ৪৬১ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দী বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষে পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৭৮৭ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৭৫ জন।
মেহেরপুর-২ গাংনী আসনে সাবেক এমপি আমজাদ হোসেনকে ১০ হাজার ৩১৮ ভোটে পরাজিত করেন নাজমুল হুদা। জামায়াত প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৬ হাজার ৩০৬ ভোট পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দী বিএনপি প্রার্থী ও ধানের শীষে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৯৮৮ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজার ৭০৫ জন।
পূর্ববর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, ১৯৮৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী মেহেরপুর জেলা গঠিত হয়। তারপর থেকে মেহেরপুর-১ আসনে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ৬ বার (বির্তকিত নির্বাচনসহ), জাতীয় পার্টি ১ বার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপি) ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারই প্রথম বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী থেকে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলো।
অপর দিকে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ৩ বার (বির্তকিত নির্বাচনসহ), ফ্রিডম পার্টি ১ বার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপি) ৪ বার নির্বাচিত হয়েছিলেন, স্বতন্ত্র ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ আসনেও জামায়াত ইসলামী থেকে প্রথম বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। এ আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে সারাদেশে বিএনপির ভরাডুবিতেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপি) থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আমজাদ হোসেন বিজয়ী হয়েছিলেন।
এ দুটি আসনে বিএনপির পরাজয়ের পিছনে বিএনপির অর্ন্তকোন্দলকে দ্বায়ি করছেন নেতাকর্মীরা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী “সময়ের আলো”কে বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পরিবর্তনের জন্য রাজপথে মশাল মিছিলসহ প্রতিদিন নানা কর্মসূচী পালন করেছেন। কিন্তু দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে তাদের জন্য মাঠে কোন কাজ করেনি বরং অনুসারীদের মাধ্যমে তাদের ভোটারকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য বলে দিয়েছেন। গত বৃহষ্পতিবার জেলার দুটি আসনে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মেহেরপুর-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের একটি অডিও ক্লিপ ইতোমধ্যে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার কথা ভাইরাল হয়েছে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক যদি দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্রের কারনেই মেহেরপুরের দুটি আসন বিএনপি হারিয়েছে। জেলার প্রতিটি গ্রামে বাজার-ঘাট সব জাগায় চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।