ভোট দিলেন চুয়াডাঙ্গার কৃতিসন্তান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম

স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গার দুই সংসদীয় আসনেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের চুয়াডাঙ্গা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন ঢাকার এনএন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও জেটস্ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন। ভোটকেন্দ্রের সামনে উপস্থিত বিএনপির নেতা-কর্মী ও তার শুভানুধ্যায়ীরা তাকে দেখে এগিয়ে আসেন। তিনি সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, অনেককে বুকে জড়িয়ে ধরেন এবং খোঁজখবর নেন।
 ভোট দেয়া শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সবার আস্থা থাকা উচিত। জাহাঙ্গীর আলম চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সাদেক আলী মল্লিকপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মৃত শেখ আরশেদ আলীর ছেলে। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে চুয়াডাঙ্গা শহরেই। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনের সন্ধানে ঢাকায় পাড়ি জমান। সেখানেই গড়ে তোলেন নিজস্ব ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে তিনি এনএন গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং জেটস্ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে দুই পুত্র সন্তানের জনক জাহাঙ্গীর আলম। বড় ছেলে তার ব্যবসায়ীক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত, আর ছোট ছেলে কানাডায় বসবাস করছেন। রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা জানান তিনি। ছাত্রজীবনে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। পরে জেলা যুবদলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি আগামী চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগ্রহী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, জেলার উন্নয়নে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেলে আমি নিজেকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে চাই। জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা রয়েছে। এজন্য জেলাবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করছি।
স্থানীয় রাজনীতিতে তার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, ব্যবসায়িক সাফল্য এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা থাকায় জেলাজুড়ে তিনি বেশ আলোচিত। এছাড়া সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় জাহাঙ্গীর আলম। তিনি চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, শহর সমাজসেবা এবং রোগী কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য। বিভিন্ন সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তামূলক উদ্যোগে তার অংশগ্রহণ রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ভোটের দিন কেন্দ্র ঘিরে তার উপস্থিতি এবং জেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগ্রহের ঘোষণায় চুয়াডাঙ্গার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।