জীবননগর অফিস
জীবননগরে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে গণমিছিল অনুষ্ঠিত। গতকাল রবিবার বিকাল ৪টায় জীবননগর শহরের বাসস্ট্যান্ডের মুক্তমঞ্চ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে স্টেডিয়ামে শেষ হয়। গণমিছিলে নেতৃত্ব দেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। গণমিছিলটি শুরু হলে রাস্তার সকল যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। থমকে যায় শহরের স্বাভাবিক কোলাহল। রাস্তা লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।
মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত জনসভায় মাহমুদ হাসান খান বাবু তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাঝে মধ্যে কেউ কেউ পরোক্ষ ভাবে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করে অমুক দলের লোক অমুক ধর্মের লোক ভোট কেন্দ্রে গেলে দেখে নেবো। আমাদের দায়িত্ব হবে এই নির্বাচনটা যেনো উৎসব মুখর হয়। এ ধরনের পরোক্ষ হুমকি যদি কেউ দেয় আমাদেও দায়িত্ব হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো। ভোট দেওয়ার পর ভোট কেন্দ্রের পাশে আমরা আমাদের ক্যাম্পে অবস্থান করবো। অবস্থান করা মানে কোন ধরনের হাঙ্গামা মারামারি এসমস্ত নয়। অবস্থান করা মানে নির্বচনকে আরো বেশি উৎসব মুখর করা। আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। আমাদের শত্রু নয়, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী। তারা নির্বাচনী প্রচারনায় বলে বেড়ায় আমাদের নারী ভোটররা নাকি সব ভোট ওনাদের দিয়ে দিয়েছে। এটা সঠিক কিনা প্রশ্ন করলে উপস্থিত জনতা না না করে জবাবব দেন। যদি নারীদেও ব্যাপারে তাদের সম্মান থাকতো, নারীর ক্ষমতায়নের যদি বিশ্বাস করতেন, তাহলে অন্তত ৩০০ আসনের একজন নারীকে হলেও নমিনেশন দিতেন।
দেন নাই। উনাদের সম্মানিত আমীর এ কথা বলেন, উনাদের দলের শীর্ষ পর্যায়ে কোন নারীর আসীন হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। আর আমাদের দল যোগ্যতায় বিশ্বাস করে। আমাদের দল যোগ্যতায় বিশ্বাস করে বলেই বহু নারী নেত্রী থেকে নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। আমাদেও নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুঃসময়ে দলের হাল ধরেছেন এবং শুধু বাংলাদেশে মানুষের হৃদয়ে নয় বিশ্বের মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়ে আপোষহীন নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমরা নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করি, নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি, আমরা চাই নারী পুরুষ মিলে এই দেশটা আমরা গড়বো। আমাদের আপত্তি একটা জাগায়, মুখে একটা বলবেন আর কাজে কর্মে করবেন আর একটা। ভোট চান মায়েদের মেয়েদের বোনদের কিন্তু তাদের সম্মান দেখাবেন না। সম্মান আপনারা ১৯৭১ সালেও দেখাননি। ধানের শীষে ভোট দিলে উন্নয়ন করা হবে। অবকাঠামো রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এ উন্নয়নের কথা আমরা বলি, এটা আমরা করতে পারবো বলেই বলি। আমরা বেহেস্তের টিকিটের কথা বলি না কারণ আমরা জানি এটা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো না। যেটা আমরা বাস্তবাযন করবে পারবো না সেটা আমরা বলি না।
গণমিছিলের কারণে পৌরবাসী ও শহরের ব্যবসায়ীদের সাময়িক জনদূর্ভোগের জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। জীবননগরে ধানের শীষ প্রতীকের গণমিছিল দেখে শহরের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী খাজা মইন উদ্দিন বলেন, জীবননগর শহরে এতো লোকের মিছিল আমি আগে দেখিনি।
সংক্ষিপ্ত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখের জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান, জীবননগর পৌর সভার সাবেক চেয়ারম্যার আশরাফুল হক, জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর প্রমুখ।
জীববনগরে ধানের শীষ প্রতীকের গণমিছিলে মাহমুদ হাসান খান বাবু



