চুয়াডাঙ্গায় কোর কমিটির সদস্যদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী ছয় প্রার্থীর মতবিনিময় সভায় রিটার্নিং অফিসার

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা কোর কমিটির সদস্যদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী ছয় প্রার্থীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুর ১২ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
এসময় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল ও হাতাপাখার প্রার্থী মো. জহুরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু, দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী রুহুল আমিন ও হাতপাখার প্রার্থী হাসানুজ্জামান সজিব উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভোটারদের মাঝে ভীতি কাজ করছে। অনেকেই ভয়-ভীতি দেখিয়ে দুর্বলদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করছে। যেখানে জেলখানার কয়েদিরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে সেখানে সাধারণ মানুষ ভোট দেবে এটাই স্বাভাবিক। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চুয়াডাঙ্গার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলোর তালিকা দেওয়া হোক।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জনগণের সাথে একটি ক্যাম্পেইন করার প্রয়োজন ছিল। গণভোটের বিষয়ে বিভিন্ন বাজারগুলোতে গিয়ে হ্যাঁ না ভোটের ব্যাপারে একটি ক্যাম্পেইন করলে আরো ভালো হতো বলে আমি মনে করছি। দীর্ঘদিনের একটি কালো অধ্যায় পার করে এখন যে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সেটি যে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হবে সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার প্রয়োজন ছিল। আসন্ন নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো জোরদার করলে জনগণ আস্থা ফিরে পাবে বলে আমি মনে করি।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরিফুজ্জামান শরীফ বলেন, বিগত ১৭ বছরে যে ফ্যাসিস্ট সরকার শাসন করেছে তার দোসরা এখনো সমাজে রয়ে গেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেই সকল দুষ্কৃতিকারীরা যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। তাই সে বিষয়ে প্রশাসনকে আরো তৎপর হতে হবে। আমি প্রশাসনকে কোন প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের পরিচয় প্রকাশ না করতে অনুরোধ করছি। কারণ অনেকে এই সকল প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের সাথে আঁতাত করে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে। আমরা চাই একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রশাসন আমাদেরকে উপহার দিক।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, এখনো সাধারণ জনগণের মাঝে ভোট নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। অনেকেই বলাবলি করছে আমরা ভোটটা সঠিকভাবে দিতে পারব তো? এ সকল সংশয় দূরীকরণে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিভিন্ন জায়গায় কয়েকটি প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি করা যেতে পারে। সেই সাথে আমরা চাই মহিলা ভোটকেন্দ্রে একজন পুরুষ পোলিং এজেন্টকে প্রধান করা হোক। ভোট গণনা করতে অনেক সময় রাত হয়ে যায় তাই একজন নারী সেই সময় পর্যন্ত থাকতে পারবে না। তাই একজন পুরুষকে পোলিং এজেন্টদের প্রধান করলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘কেউ জাল ব্যালট ও ভূয়া ভোটার ভোট দিতে পারবে না। প্রশিক্ষণের সময় ভোটগ্রহনকারী কর্মকর্তাদের বলে দেয়া হয়েছে। প্রতি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, বডি অন ক্যামেরা ও ড্রোন থাকবে। সুতরাং কেউ দুষ্টমী করার সুযোগ পাবে না। সকাল থেকেই ভোট কেন্দ্রে ও টহল অবস্থায় পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে।’ তিনি আরোও বলেন, ভোটের দিন কোথাও ভোট কেন্দ্র, ভোট কেন্দ্রের আশপাশ এবং অন্য যে কোনো জায়গায় কোনো জটলাই আমরা হতে দেবো না। যেখানেই জটলা সেখানেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যত লেভেলে আছে সব প্রয়োগ করা হবে। প্রথমে ভদ্রভাবে বলা হবে, ভদ্রতায় কাজ না হলে বল প্রয়োগ করা হবে। আপনাদেরকে অনুরোধ করতে চাই, বিগত তিনটি নির্বাচন এটা রাষ্ট্রের একটা কলঙ্কিত অধ্যায় ছিল। ঐটা আমরা ভুলে যাই। আগের যে ভালো নির্বাচনগুলো হয়েছে সেগুলোকে মাথায় নিলে আমাদের চিন্তাটা সহজ হবে।
মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম , সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কামান্ডার লে. কর্ণেল ফাহাদ, ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক রফিকুল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিএম তারিক-উজ-জামান, জেলা নির্বাচন অফিসার আহমেদ আলী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান সাহেল, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল প্রমুখ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।