স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে জেলাজুড়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান রোধ, যানজট নিরসন এবং আসন্ন বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় গত মাসের কার্যবিবরণী পাঠ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তারিক উজ জামান। তিনি জানান, জানুয়ারি মাসে জেলায় ১৮টি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। পুলিশ কর্তৃক ৯৮ টি অভিযানে ২২৭ টি মামলা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃক ১৮টি অভিযানে ৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করতে হবে। জেলার মাদকদ্রব্য ও যানজট নিরসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো তৎপর হতে হবে। যারা মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার আপোষ নয়। টোবাকো কোম্পানির প্রতিনিধিরা আমাকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিল তাদের তাদের শুভেচ্ছাও আমি গ্রহণ করিনি। চুয়াডাঙ্গাতে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চুয়াডাঙ্গা শহরের কোথাও কোন অপীতিকর পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ভেতর বখাটে ছেলেদের আড্ডার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পরবর্তীতে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের ভেতর কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেই দায়ভার কলেজ কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, চুয়াডাঙ্গা ইতোমধ্যেই মাদকের আনাগোনা ব্যাপক হারে বেড়েছে। কিছুদিন আগেও আমরা এস্কাফ নামক মাদকের একটি বড় চালান জব্দ করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সর্বদা সোচ্চার রয়েছি তবে মাদককে রুখতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বা পুলিশ একা কিছু করতে পারবে না সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদককে রুখে দেওয়া সম্ভব। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষেও চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল, পাবলিক প্রসিকিউটর মারুফ সরোয়ার বাবু এবং জুলাই যোদ্ধা হাসনা জাহান খুশবু, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক আসলাম হোসেন অর্ক প্রমুখ।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার, সিভিল সার্জন হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান সাহেল, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সাধারন সম্পাদক শাহ আলম সনি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, সাংবাদিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিকসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
চুয়াডাঙ্গায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন



