শহর প্রতিবেদক
চুয়াডাঙ্গা শহরে নির্মাণাধীন ওভার ব্রিজকে ঘিরে সড়কে ধুলাবালিতে সয়লাব হয়ে পড়েছে। এ কারণে সড়কে চলাচলকারী হাজারো পথচারী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা একাডেমী মোড় থেকে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সড়কজুড়ে ধুলোর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা শহরের একাডেমি মোড় এলাকা থেকে শুরু হয়ে বাস টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত এই ওভার ব্রিজটির নির্মাণকাজ চলছে। তবে জমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় গত দুই মাস ধরে নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। কাজ যখন চলমান ছিলো তখন ঠিকাদারী প্রতিষ্টান রাস্তায় সকাল-বিকাল গাড়িতে করে পানি ছিটাতো। তবে সেই পানি ছিটানোটা বন্ধ রয়েছে।
এই সড়কে কোনো সার্ভিস লেন না থাকায় সম্প্রতি নতুন করে ওভার ব্রিজের দুই পাশে সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সার্ভিস লেনটি কেবল ইটের হেরিং হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচলের সময় অতিরিক্ত ধুলোর সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে আশপাশের এলাকায় বায়ুদূষণ বেড়ে গেছে। এর বাইরে হেরিংএ কাজ করার সময় রাস্তার দুই ধারে প্রচুর পরিমাণে মাটি ও বালি দেয়া হয়েছে। এতে রাস্তায় ধুলোর পরিমান আশংকাজনক হারে বেড়েছে। নাক, মুখ ঢেকে রাস্তায় চলাচল করলেও ধুলো চোখে মুখে প্রবেশ করলে।
সড়কে চলাচলকারী পথচারী, রিকশাচালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা ধুলোর কারণে চোখে জ্বালা, শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জির মতো সমস্যায় পড়ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পানি ছিটিয়ে ধুলা নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
পথচারী মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ওভার ব্রিজ নির্মাণ একটি ভালো উদ্যোগ, এতে ভবিষ্যতে যানজট কমবে এটা আমরা সবাই চাই। কিন্তু বর্তমানে নির্মাণকাজের কারণে রাস্তাজুড়ে যে পরিমাণ ধুলাবালি উড়ছে, তাতে প্রতিদিন চলাচল করা খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত ধুলার কারণে চোখ জ্বালা করছে, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ওভার ব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় উন্নয়নের আশা করছি, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু নির্মাণকাজ চলাকালে সড়কে যে পরিমাণ ধুলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে, তা আমাদের জন্য মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওভার ব্রিজের দুই পাশে সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হলেও সেখানে নিয়মিত পানি না দেওয়ায় সারাক্ষণ ধুলোর মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে চোখে মুখে ধুলো ঢুকে পড়ছে। অনেক সময় হেলমেট পরেও ধুলোর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করছে। আমরা উন্নয়নের বিপক্ষে নই, তবে উন্নয়নের নামে যেন জনদুর্ভোগ না হয়।
এক বাস চালক বলেন, আমি প্রতিদিন এই সড়ক দিয়েই বাস চালাই। ওভার ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেছে। ব্রিজের দুই পাশে সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হলেও সেখানে প্রচুর ধুলাবালি জমে আছে। সামান্য বাতাস হলেই ধুলা উড়ে গিয়ে সামনে কিছুই দেখা যায় না। সকাল ও বিকেলে ব্যস্ত সময়ে যাত্রী নিয়ে গাড়ি চালানো খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা চুয়াডাঙ্গা একাডেমি মোড় থেকে টার্মিনাল সড়কের দুই পাশের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। বর্তমানে ওভার ব্রিজ নির্মাণকাজ চলমান থাকায় এবং দুই পাশে সার্ভিস লেন নির্মাণের কারণে রাস্তাজুড়ে অতিরিক্ত ধুলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে। প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচলের ফলে এই ধুলাবালি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ধুলাবালির কারণে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। দোকানের পণ্য ঢেকে যাচ্ছে ধুলায়, পরিষ্কার রাখতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিয়মিত পানি ছিটিয়ে ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে আমাদের দোকানপাটে ধুলা জমে পণ্য নষ্ট হচ্ছে, ক্রেতারা দোকানে প্রবেশ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
রেলবাজারে নির্মাণাধীন ওভার ব্রিজকে ঘিরে সড়ক ধুলাবালিতে সয়লাব চরম ভোগান্তিতে চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষ, স্বাস্থ্যঝুঁকির আশংকা



