ঋতুবদলের ছোঁয়া বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে গাছে গাছে আমের মুকুল

হাসান নিলয়, জীবননগর
ঋতুচক্রের নিয়মে বিদায় নিতে বসেছে শীতকাল। মাঘ মাসের শেষভাগে প্রকৃতিতে লেগেছে বসন্তের আগমনী ছোঁয়া। ঝরে পড়া পুরোনো পাতার জায়গা দখল করে গাছে-গাছে গজিয়েছে নতুন কচি পাতা। সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে আমের মুকুল, ছড়িয়ে পড়ছে মৌ-মৌ সুবাস। সেই গন্ধই যেন জানান দিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন।
জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। সবুজ পাতার মাঝে সোনালি রঙের মুকুলে প্রকৃতি সেজেছে এক অনন্য রূপে। মুকুলের সৌন্দর্য আর সুবাসে চারপাশে তৈরি হয়েছে মধুমাসের আবহ।
আমের মুকুল দেখে আশায় বুক বাঁধছেন চাষি ও বাগান মালিকরা। ভালো ফলনের প্রত্যাশায় তারা এখন থেকেই গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলার বসতবাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশে, পুকুরপাড়, বাগান ও ফসলের জমিতে রয়েছে অসংখ্য আমগাছ। অনেকে আবার বাণিজ্যিকভাবে আমের বাগান গড়ে তুলেছেন। এখানে হিমসাগর, তিলেবোম্বাই, ফজলি, ল্যাংড়া, আম্রপালি ও মল্লিকা জাতের আমগাছ বেশি দেখা যায়।
উথলী গ্রামের আমবাগান মালিক আকবার আলী জানান, ৫ বিঘা জমিতে আম্রপালি জাতের আমের বাগান রয়েছে। চারপাশে কিছু হিমসাগর গাছও আছে। এবার গাছে ভালো মুকুল এসেছে। মুকুল টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা ও জীবাণুনাশক স্প্রে করছি।
তুহিন আলী বলেন, বাড়ির আঙিনা ও জমির আইলে কয়েকটি হিমসাগর গাছ আছে। পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে বাজারে আম বিক্রি করি। প্রতিবছর ভালো মুকুল আসে। তবে গুটি অবস্থায় অনেক ঝরে পড়ে। তাই কৃষি অফিসারের পরামর্শে এখন থেকেই যত্ন নিচ্ছি।
লিটন হোসেন জানান, এবার আগেভাগেই অনেক মুকুল এসেছে। এই সময়টা খুব ঝুঁকিপূর্ণ। ঘন কুয়াশা, ঝড়বৃষ্টি ও রোগবালাইয়ে মুকুল ঝরে যেতে পারে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে আছে। গুটি ধরা পর্যন্ত এমন আবহাওয়া থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি। প্রকৃতির এই ঋতুবদল আর আমের মুকুলের ঘ্রাণে জীবননগর জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বসন্তের আগমনী আনন্দ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।