বাইপাস সড়ক নির্মাণ, চিকিৎসা ও শিক্ষার উন্নয়ন ঘটাতে চাই শরীফুজ্জামান শরীফ

স্টাফ রিপোর্টার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থীরা খাওয়া নাওয়া ভূলে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর এক দিন পরই ভোটের প্রচারণা শেষ হচ্ছে। এই আসনে ৩ জন প্রার্থী এখন চুড়ান্ত লড়াইয়ে  ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মাঠে শক্ত অবস্থান জানান দিচ্ছেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী এ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল ও হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইসলামী আন্দোলনে মনোনীত প্রার্থী রয়েছেন জহুরুল ইসলাম আজিজি। দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে চলছেন চুয়াডাঙ্গার দুটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা। ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এখানে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বিগত ৪টি নির্বাচন বাদ দিলে এই আসনটি বিএনপির ঘাটি হিসাবে পরিচিত রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সাথে এক সাক্ষাতকারে বলেন, নির্বাচনী সকল আচরণবিধি মেনে আমরা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন চাই। জেলাসহ দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাই।
দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গার সম্পাদক বিপুল আশরাফের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে শরীফুজ্জামান শরীফ যে সকল প্রতিশ্রুতি দেন :
আজকের চুয়াডাঙ্গা: ১. আপনার এলাকার ভোটারদের নিয়ে আপনার নির্বাচনী প্রতিক্রিয়া কি?
শরীফুজ্জামান শরীফ: আপনারা সবাই জানেন আমাদের ৬৪ টা জেলার মধ্যে একটি শুধু জেলা চুয়াডাঙ্গা যে জেলার কোন বাইপাস সড়ক নাই, আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগটা ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে আছে, আমাদের চুয়াডাঙ্গা জেলার দুই নম্বর আসন ভিত্তিক যারা বসবাস করে তারা অধিকাংশ মানুষ ইন্ডিয়ায় চিকিৎসার জন্য যায়, এবং এক নম্বর আসন ভিত্তিক আলমডাঙ্গার ৯৫ শতাংশ মানুষ চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া বা রাজশাহীতে যায়। আমাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আড়াইশো বেডের অবকাঠামো থাকলেও এখানে চিকিৎসার কোন সুযোগ নেই, ১০০ জনের চিকিৎসা সেবা হয় তারপরও সেটি অবহেলিত এবং বিভিন্নভাবে স্থানীয় ডাক্তারদের এখানে পোস্টিং হওয়ার কারণে এখানে নিজস্ব ক্লিনিক এবং নিজস্ব বলয় তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসার কোন পরিবেশ নেই। আমি এই সমস্ত বিষয়েগুলো নিয়ে জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টা মাথায় নিয়েছি। সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সেবাদান মূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতে জবাবদিহিতা থাকে এবং সঠিকভাবে দুর্নীতিমুক্ত ভাবে সবাই কাজ করতে পারে সরকারি যে সেবাটা, রাষ্ট্রীয় যে সেবাটা প্রত্যেকটা নাগরিক যেন সেই সেবার আওতাভূক্ত হয় সেই সেবাটা যেন সঠিকভাবে পায় এটি সবথেকে বড় দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।
রাষ্ট্র এত সুবিধা জনগণের জন্য দিয়ে রেখেছে সেই সুবিধা থেকে জনগণ হয়রানি হচ্ছে বঞ্চিত হচ্ছে কিন্তু অনেকে এটাকে পুঁজি করে ব্যবসা করছে। এ সমস্ত দুর্নীতি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই। এই চুয়াডাঙ্গাকে আমি দুর্নীতিমুক্ত করে রাষ্ট্রীয়ভাবে যেই সেবা আছে সেই সেবাটাকে মানুষের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমি চেষ্টা করব। পাশাপাশি শিক্ষার যে ব্যবস্থা আছে, আমাদের এই চুয়াডাঙ্গা জেলা হল কৃষি প্রধান জেলা। এই জেলাতে আমরা একটি কৃষি ইনস্টিটিউট করতে চাই। আমাদের এখানে বাংলাদেশের সবচাইতে বড় এবং বেশি পান চাষ হয় এখানে পান নিয়ে গবেষণা কেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনা আছে। আমাদের ভুট্টা চাষ এখানে সব থেকে বেশি হয়, আমাদের কৃষকদের সারের যেন কোন সমস্যা না থাকে। এখানে সরকারিভাবে যে বিক্রয় কেন্দ্রগুলো ইউনিয়নে ইউনিয়নে করে কৃষক যেন তার ফসলগুলো ন্যায্য মূল্যে বিক্রয় করতে পারে এ সমস্ত কাজ করতে চাই। আমি আমার নির্বাচনী এলাকাগুলো ঘুরে দেখেছি রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। কিছু কিছু গ্রাম আছে সে সমস্ত গ্রামের রাস্তা দিয়ে হাঁটছি নাকি পুকুরের ভিতর হাঁটছে সেটা বলা কঠিন এবং কষ্টকর সেই জিনিসগুলো আমি নোট করেছি আমি জনগণের কল্যাণের স্বার্থে রাষ্ট্রীয় সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য জনগণের কাছে আশা রাখি।
আজকের চুয়াডাঙ্গা ২. নির্বাচনী আচরণ বিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কি?
শরীফুজ্জামান শরীফ: আমরা ১৭ বছর ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য রাজপথে আন্দোলন করেছি। গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা রাজপথে আন্দোলন করেছি। আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের অনেক সহযোদ্ধা জীবন দিয়েছেন। অনেক সহযোদ্ধা গুম হয়েছে, একাধিক সহযোগি জেল খেটেছে, অনেক সহযোদ্ধা এই জেলা ছেড়ে অন্য জেলায় গিয়ে বসবাস করেছে, অনেক নেতাকর্মী রাতে বাড়িতে শুতে পারেনি। বর্তমান যে অন্তবর্তীকালীন সরকার আছে, যে সরকার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে যাচ্ছে তাদেরকে অবশ্যই সহযোগিতা করতে চাই। তাদের পাশে থাকতে চাই, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আচরণবিধি থেকে শুরু করে যে কোন প্রকার সহযোগিতা আমরা করতে চাই। আমরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলবোই। যারা আচরণবিধি মেনে চলে তাদেরকে আমরা সহযোগিতা করতে চাই।
আজকের চুয়াডাঙ্গা ৩. জুলাই সনদ বিষয়ক ভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কি?
শরীফুজ্জামান শরীফ: ইতিমধ্যে আপনারা জেনেছেন আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দলের কেন্দ্রীয় নেতারা, মহাসচিবসহ এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান একাধিকবার বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে বসেছেন আলাপ আলোচনা করেছেন। আমরা এটাকে অবশ্যই মূল্যায়ন করি প্রাধান্য দেই। সেই অনুযায়ী আমরা এই জুলাইয়ের চেতনাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়েই চলবো এবং রাষ্ট্র গঠন করে এগিয়ে যাব।
আজকের চুয়াডাঙ্গা ৪. আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কি?
শরীফুজ্জামান শরীফ: আমরা অবশ্যই চাই নির্বাচন সুষ্ঠু এবং সুন্দরভাবে হোক এবং সমস্ত প্রশাসন নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে সুন্দর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। যাতে সাধারণ মানুষ তার ভোট দিতে পারে, তার ব্যক্তিগত মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে পারে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আগামী দিনের রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনা হোক এটাই আমরা চাই।
আজকের চুয়াডাঙ্গা ৫. নির্বাচনে জয়লাভ করলে এলাকার কি কি উন্নয়ন করতে চান?
  শরীফুজ্জামান শরীফ: আমি সার্বিকভাবে যেটা চাই এই চুয়াডাঙ্গা জেলা বর্তমানে একটি অভিভাবকহীন জেলা আমি নির্বাচিত হই বা না হই, আমি জনগণের পাশে থাকতে চাই। জনগণের সেবক হয়ে থাকতে চাই। জনগণের সুবিধা ও অসুবিধা বিপদ-আপদ সুখ-দুঃখের সাথি হতে চাই। নির্বাচনে জয়লাভ করলে এলাকার রাস্তাঘাট, চিকিৎসা ও শিক্ষার উন্নয়ন ঘটাতে চাই।
আজকের চুয়াডাঙ্গা ৬. আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আপনি কি মনে করছেন?
শরীফুজ্জামান শরীফ: নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টা এখনো চলছে। আপনারা দেখেছেন হাদীসহ বিভিন্ন জায়গায় আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দলের মোবাশির যশোরে খুন হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ঝামেলা করা হচ্ছে। আমরা মনে করি যতই অপচেষ্টা করুক না কেন, এই নির্বাচনকে বানচাল করতে পারবেনা। নির্বাচন এই বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় কঠোর হস্তে সমস্ত কিছু দমন করে এই নির্বাচনকে সুস্থ এবং নিরপেক্ষ করবে এবং এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে বলে আমরা আশা রাখি।
আজকের চুয়াডাঙ্গা: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
চুয়াডাঙ্গা শহরের মুক্তিপাড়ায় শরীফুজ্জামান শরীফের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা। তার পৈতৃক নিবাস আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের পাঁচ কমলাপুর গ্রামে। তার পিতার নাম মোঃ শামসুজ্জোহা, মাতাঃ সাহিদা বেগম ও স্ত্রী কাজী মুসারবাত তানজিলা। ২ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জনক তিনি। ২৫ জানুয়ারী ১৯৭৩ সালে জন্ম নেয়া শরীফের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ পাশ। শরীফুজ্জামান পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি ১৯৯১ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে পদার্পণ করেন। দীর্ঘদিন বিএনপি’র রাজনীতিতে জড়িত থাকার পর ২০১৪ সালে তিনি জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ লাভ করেন। ২০২৪ সালের ২৩ নভেম্বর দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে শরীফুজ্জামান শরীফ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীফুজ্জামান শরীফ চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিন্দন্দ্বীতা করেন।
দেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী খ্যাত চুয়াডাঙ্গা। কৃষি প্রধান এ জেলায় জাতীয় সংসদে রয়েছে দুটি আসন (চুয়াডাঙ্গা-১ ও চুয়াডাঙ্গা-২)। চুয়াডাঙ্গা-১: এ আসনটি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৬টি এবং আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৫টি সহ মোট ২১টি ইউনিয়ন, ২টি পৌরসভা ও ২টি থানা নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে অন্তভূক্ত রয়েছে আলমডাঙ্গা পৌরসভা ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা এবং চুয়াডাঙ্গা সদর থানা ও আলমডাঙ্গা থানা। আসনটিতে বর্তমানে মোট ভোটার ৫ লাখ ১১ হাজার ৬৫৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩০২ জন ও মহিলা ২ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৭ জন এবং হিজরা ৭ জন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।