মুন্সিগঞ্জ-মাদারহুদা রেললাইনের ধারে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়ায়ে আছে ২০০ বছরের বটবৃক্ষ ও তমালগাছ

আলমডাঙ্গা অফিস
চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের মুন্সিগঞ্জ-মাদারহুদা রেললাইনের ধারে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি বটবৃক্ষ ও তমালগাছ আজও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই বটবৃক্ষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘তমালতলা’ শুধু একটি ভৌগোলিক স্থান নয়, বরং স্থানীয় সংস্কৃতি, লোকগাথা ও রহস্যের আধার।
স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, প্রায় দুই শতাব্দী আগে গ্যনা বাউনি নামের এক সাধিকা এখানে গাছ দুটি রোপণ করেন। রব্বানী ফকির ও তার সেবাদাসী সুন্দরীর হাত ধরেই প্রথম প্রাণের স্পন্দন জাগে। পরবর্তীতে বাবুর আলী ফকির আস্তানার জন্য জমি দান করেন। এরপর ফজলু, তোফাজ্জেল, তৈয়ব ও আতিউল্লাহর মতো সাধু-সন্তের পদধূলিতে ধন্য হয়েছে এই তমালতলা।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, গাছের ডালপালা বা শুকনো কাঠ স্পর্শ করাও বিপদের কারণ হতে পারে। অতীতে গাছ কাটতে গিয়ে বা গাছের নিচে অবহেলিত আচরণে রহস্যজনক দুর্ঘটনার গল্পের সৃষ্টি হয়েছে। তাই আজও কেউ গাছের একটি পাতা ছেঁড়ার সাহস পায় না। শুকনো ডালগুলোও যত্ন সহকারে স্থানীয় মসজিদ-মন্দিরে রাখা হয়।
প্রতিদিন বিকেলে এখানে ভিড় জমান দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য দর্শনার্থী। ক্লান্ত কৃষক ও পথচারীদের জন্য বিশাল গাছের ছায়া প্রকৃতির আশীর্বাদ। তবে চরম অবহেলার কারণে দর্শনার্থীদের জন্য সুপেয় পানি, বসার জায়গা বা নিরাপদ বিশ্রামের ব্যবস্থা নেই।
স্থানীয়রা দাবি করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বরাদ্দ থাকলে তমালতলাকে আধুনিক বিনোদন পার্কে রূপান্তর করা সম্ভব। এতে চুয়াডাঙ্গার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একসাথে সংরক্ষিত থাকবে এবং এটি জেলার একটি প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।