চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

স্টাফ রিপোর্টার
গ্রন্থাগার গড়ি, জ্ঞানসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসন ও জেলা সরকারি গ্রন্থাগারের যৌথ আয়োজন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লাইব্রেরী ইনচার্জ মোহাম্মদ আবু সাইফ মামুন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফ।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বলেন, একটি আলোকিত ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অপরিসীম। বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান সমাজে প্রায় প্রতিটি এলাকায় লাইব্রেরি রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো লাইব্রেরি থাকলেও সেখানে বই পড়ার মানুষ দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। যদি আজকের শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করা হয় আপনি সর্বশেষ কবে বই পড়েছেন? তাহলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছেই স্পষ্ট কোনো উত্তর পাওয়া যায় না। কেউ কেউ আবার তৎক্ষণাৎ বলে ওঠে, কালকেও বই পড়েছি। কিন্তু যখন জিজ্ঞেস করা হয় কোন বই পড়েছেন? তখন তাদের উত্তর সীমাবদ্ধ থাকে চাকরির প্রস্তুতির বই, গাইড বই কিংবা শিশুদের পড়ানোর জন্য স্কুলের পাঠ্যবই পর্যন্তই।
পরবর্তী প্রশ্নে যখন জানতে চাওয়া হয় আপনি কি কখনো কোনো উপন্যাস পড়েছেন? কিংবা কোনো কবির কবিতার বই পড়েছেন? তখন তাদের মুখে আর কোনো উত্তর শোনা যায় না। নীরবতা তখন স্পষ্ট করে দেয়, সাহিত্যচর্চা আজ অনেক শিক্ষার্থীর জীবন থেকে প্রায় হারিয়েই যাচ্ছে। এই বাস্তবতা আমাদের ভাবিয়ে তোলে আমরা কি ধীরে ধীরে কেবল পরীক্ষানির্ভর ও চাকরিমুখী শিক্ষায় আটকে পড়ছি? মানবিকতা, কল্পনাশক্তি ও চিন্তার গভীরতা গড়ে তোলার যে অন্যতম মাধ্যম বই ও সাহিত্য, তা কি আমরা বিস্মৃত হতে বসেছি না তো।
বিশেষ অতিথি ড. মুন্সি আবু সাইফ বলেন,  একজন ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিলে আমরা তার কাছ থেকে বিনিময়ে কিছু চাই না। ঠিক তেমনি, বইয়ের কাছ থেকে যখন আমরা জ্ঞান গ্রহণ করি, তখন বই আমাদের কাছ থেকেও কিছু দাবি করে না। কিন্তু নিঃস্বার্থভাবে আমাদের জ্ঞান, বোধ ও বিবেককে সমৃদ্ধ করে তোলে। সুতরাং পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত লাইব্রেরিতে গিয়ে বিভিন্ন সাহিত্য, উপন্যাস ও শিক্ষণীয় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা আমাদের অত্যন্ত জরুরি। বইই পারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করতে এবং আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে।
আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পাঠক ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাহিত্যপ্রেমী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।