স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্রে বড়বাজার হাসান চত্বর মোড়ে যানজট নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে একাডেমির মোড়ে যানজট। যানজটের কারনে রাস্তায় চলাচলরত হাজারো মানুষের ভোগান্তি উঠেছে চরমে। তবে বিষয়টি সমাধানের জন্য বিভিন্ন সময়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ট্রাফিক পুলিশও অনেকটা দায়সারা ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
বড়বাজার হাসান চত্বর (চার রাস্তার মোড়) অনিয়ন্ত্রিত ইজিবাইক চলাচল, অবৈধ পার্কিং এবং ফুটপাত দখলের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়টি কার্যত অচল হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে একাডেমির মোড়ে ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে সড়কের একটি অংশ বন্ধ থাকায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকরা।
স্থানীয়রা জানায়, বড়বাজার চার রাস্তার মোড়টি শহরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহনের চলাচল থাকে। তবে পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত তদারকির অভাবে যানজট দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। অপরদিকে একাডেমির মোড়ে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকছে। বিশেষ করে সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা এবং বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ চললেও বিকল্প সড়ক ব্যবস্থা, স্পষ্ট সাইনবোর্ড ও পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করা এবং অস্থায়ী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
একজন পথচারী অভিযোগ করে বলেন, রাস্তার দুই পাশে অবৈধ দোকানপাট ও ইজিবাইক পার্কিংয়ের কারণে ফুটপাত ব্যবহার করা যায় না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। এতে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ ও রোগীবাহী যানবাহন মারাত্মক সমস্যায় পড়ছে। এক ব্যবসায়ী বলেন, যানজটের কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। মালামাল আনতে গেলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়, এতে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।
বাস ড্রাইভার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি প্রতিদিন এই রুটে বাস চালাই। চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার চার রাস্তার মোড়ে এলেই যাত্রীদের কাছ থেকে কথা শুনতে হয়, কারণ এখানে যানজট নিশ্চিত। কখনো কখনো ৫ মিনিটের রাস্তা পার হতে ১৫ মিনিট সময় লেগে যায়। নির্ধারিত সময়ে বাস পৌঁছাতে না পারায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে, আবার কোম্পানির পক্ষ থেকেও চাপ থাকে। যদি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হয় এবং কাজগুলো দ্রুত শেষ করা যায়, তাহলে যাত্রী আর আমাদের দু’পক্ষেরই কষ্ট অনেকটা কমবে।
অন্যদিকে একাডেমির মোড়ে ফ্লাইওভারের কাজ চলার কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে গেছে, তার ওপর বাজার কেন্দ্রিক ভিড়, ইজিবাইক আর ছোট যান একসঙ্গে চলাচল করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিশেষ করে আলমডাঙ্গা মোড়ে যানজট প্রকট আকাড় ধারন করে। এই মোড় দিয়ে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহসহ বেশ কয়েকটি রুটের গাড়ি চলাচল করে। আলমডাঙ্গার গাড়ি একাডেমি মোড় থেকে শহরের ঢোকার কোন রাস্তা নেই। এ কারনে যানজট লেগেই থাকেন। এ অবস্থা কয়েক বছর থেকে চললেও কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই। ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও নিরাপদ দুরত্বে দাড়িয়ে থাকে। যানজট নিয়ন্ত্রনে তাদের কোন মাথাব্যাথা নেই।
ট্রাক ড্রাইভার আব্দুল করিমের বলেন, আমি প্রায় ১৫ বছর ধরে ট্রাক চালাই। চুয়াডাঙ্গা বড় বাজার চার রাস্তার মোড়ে গাড়ি চলাচলের কোন নিয়ম কানুনের বালাই নেই।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আমিরুল জানান, যানজট নিরসনে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিগগিরই মোড়গুলোতে নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন, অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ এবং ইজিবাইক চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার হাসান চত্বর ও একাডেমি মোড় যানজটে নাকাল শহরবাসী, দেখার কেউ নেই



