আলমডাঙ্গায় শেষ হলো তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা

আলমডাঙ্গা অফিস
যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় আলমডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০২৬ শেষ হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিন দিনব্যাপী এ মেলার সমাপ্তি হয় ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায়। উদ্বোধনের দিন ৩১ জানুয়ারি উপজেলা কৃষি অফিস চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি শেষে মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী সভা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ দেবাশীষ কুমার দাস। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ মাহমুদ।
এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএসএম শাহনেওয়াজ মেহেদী, ওসি (তদন্ত) আজগার আলী, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস. এম. মাহমুদুল হক, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ আহমেদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, আলমডাঙ্গায় সব ধরনের ফসলের চাষাবাদ ভালোভাবে হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ তুলনামূলক কম হওয়ায় এ এলাকা কৃষিপণ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও পদ্ধতিতে তরুণদের আগ্রহ বাড়ায় কৃষি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মেলায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে মোট ১৬টি স্টল বসানো হয়। এতে পারিবারিক সবজি ও পুষ্টিবাগান, নিরাপদ ঔষধি ফসল, মাশরুম উৎপাদন, ফুল চাষ, উচ্চমূল্যের ফল ও মশলা চাষ, আধুনিক কৃষিযন্ত্র, প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ কৌশল ও শস্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। তরুণ কৃষি উদ্যোক্তারা তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ তুলে ধরেন।
উদ্বোধনের দিন থেকেই মেলায় উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় কৃষক, তরুণ উদ্যোক্তা, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শিশু কিশোররা অভিভাবকদের সঙ্গে এসে বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি ও বড় আকারের ফল সবজি দেখে আগ্রহ প্রকাশ করে।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি সবার মাঝে কৃষির প্রতি আগ্রহ ও ভালোবাসা বৃদ্ধি করবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।