জীবননগরে চায়ের দোকানগুলোতে জমে উঠেছে নির্বাচনী আড্ডা

রকিবুজ্জামান, জীবননগর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র ৮ দিন বাকি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণকে সামনে রেখে জীবননগর উপজেলাজুড়ে বইছে নির্বাচনী উৎসবের হাওয়া। শহর থেকে গ্রামগঞ্জ অলি-গলির চায়ের দোকানগুলো এখন ভোটের আলোচনা ও রাজনৈতিক তর্ক বিতর্কের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সকাল বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিটি চায়ের দোকানে চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ, প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা বিশ্লেষণ আর সম্ভাবনা নিয়ে সরগরম আড্ডা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই মিছিল, মিটিং, উঠান বৈঠক ও প্রচার-প্রচারণা কয়েকগুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে চায়ের দোকানগুলোতেও ভিড়। অনেক দোকানিকে বাড়াতে হয়েছে চায়ের কেটলি ও কাপের সংখ্যা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি দোকানেই ১০-১২ জন করে ভোটার জটলা বেঁধে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করছেন। কাশিপুর, বাঁকা, মিনাজপুর, পিয়ারাতলা, মনোহরপুর, হাসাদাহ ও হাবিবপুরসহ সব এলাকাতেই একই চিত্র। শীতের সকাল কিংবা সন্ধ্যার পর দোকানগুলো রাজনৈতিক কথাবার্তায় মুখর হয়ে উঠছে।
হাসাদাহ বাজারের ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি বাবলু বলেন, এখন দেশের প্রধান আলোচনার বিষয় নির্বাচন। সবাই জানতে চায় বিএনপি কোন ইউনিয়ন আবার কেউ জানতে চাচ্ছে জামায়াত কোন ইউনিয়নে এগিয়ে। জীবননগরে কে কত ভোট পাবে—এ নিয়েই আলোচনা চলছে।
তরুণ ভোটার ইসমাইল বলেন, এবারের নির্বাচন অন্য সময়ের চেয়ে বেশি উৎসবমুখর। প্রার্থীর কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছে, এতে ভোটারদের গুরুত্ব বেড়েছে।
ভোটার শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রচার-প্রচারণা ভালো হচ্ছে। প্রার্থীরা সরাসরি ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন এবং ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ ভালো।
আরেক ভোটার আব্দুস সালাম বলেন, এবার নিজের পছন্দমতো স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারব—এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। নির্বাচন ঘিরে এমন প্রাণচাঞ্চল্যে জীবননগরের শহর ও গ্রামগুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।