দামুড়হুদায় বিশ্ব জলাভূমি দিবস পালন

দামুড়হুদা প্রতিনিধি
বিশ্ব জলাভূমি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন রাইসার বিলে আলোচনা সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ নামের পরিবেশবাদী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। অনুষ্ঠত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বন বিভাগের বন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আতা এলাহী এবং দামুড়হুদা উপজেলা বন বিভাগের বন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমান। পুরো আয়োজন পরিচালনা করেন সংগঠনের সভাপতি ও বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু। সঞ্চালনায় ছিলেন সহকারী শিক্ষক ফেরদৌস রহমান।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলায় বহু বাওর, বিল, নদী ও পুকুর রয়েছে, যা জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু এসব জলাভূমি প্রতিনিয়ত ভরাট, দূষণ ও দখলের কারণে হুমকির মুখে পড়ছে। ফলে শুধু মাছ নয়, অসংখ্য জল ও স্থলজ প্রাণীর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও সাহিত্য জলাভূমিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। কবি-সাহিত্যিকরা জলাভূমির সৌন্দর্য থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন। তাই জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় জলাভূমি সংরক্ষণ এখন সময়ের দাবি।
আলোচনা সভা শেষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনগণ রাইসার বিলের পাড়ে মানববন্ধন করেন। এ সময় তারা ‘জলাভূমি বাঁচাও, প্রাণ বাঁচাও ও প্রকৃতি রক্ষায় জলাভূমি সংরক্ষণ করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সংগঠনের সভাপতি আহসান হাবীব শিপলু বলেন, বিশ্ব জলাভূমি দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে জলাভূমির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা। তাই রাইসার বিলে এই আয়োজন করা হয়েছে। দূষণরোধ, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও জলাভূমি-নির্ভর প্রাণী সংরক্ষণে তাদের প্রচারণা অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য নিরব, সতেজ, ফারদিন, সাব্বিরসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকা জলাভূমি দ্বারা পরিবেষ্টিত। তবে দ্রুত নগরায়ণ, দখল ও দূষণের কারণে এসব জলাভূমির পরিমাণ ক্রমেই কমছে। ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে জলাভূমি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে ‘রামসার কনভেনশন’ গৃহীত হয়। এরপর ১৯৯৭ সাল থেকে প্রতিবছর ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী বিশ্ব জলাভূমি দিবস পালিত হয়ে আসছে। পরিবেশবিদদের মতে, জলাভূমি রক্ষা করা মানেই প্রাণ ও প্রকৃতি রক্ষা করা।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।