স্টাফ রিপোর্টার
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সিআইপি নির্বাচিত হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের দাতা সদস্য আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক-কে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব ও বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা শাখার পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সাংবাদিক ইসলাম রকিবের সঞ্চালনায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক, সমাজের দর্পণ। চুয়াডাঙ্গাকে একটি সুন্দর জেলায় পরিণত করতে হলে সকল সাংবাদিক ভাইদেরও সহায়তা প্রয়োজন। রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলেও সাংবাদিকদের কলম নিরপেক্ষভাবে চলতে হবে। আমি এই চুয়াডাঙ্গায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আপনারা মনে কইরেন না আইন বাংলাদেশে অন্ধ, আইনের হাত অনেক লম্বা। যারা মনে করছেন আমার ভাই শরীফুজ্জামান এমপি হবে, আমি আজকে মোটরসাইকেল ধোয়া উড়িয়ে শরীফুজ্জামানের ভোট করছি, আর ঘন ঘন তার সাথে ছবি তুলছি, আর দুইদিন পরে আমি মাদক সম্রাট হব, চুয়াডাঙ্গার বুকে এই চিন্তা আপনি ভুলে যান। আপনি শরীফের কথা বলে, টরিকের কথা বলে চাঁদাবাজি করবেন আপনি ভুলে যান।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের সবচেয়ে সাহসী মানুষ। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সত্য খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তারা নিরলসভাবে কাজ করেন। সাংবাদিকদের কাজের নির্দিষ্ট সময় নেই, ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবারের জন্যও অনেক সময় দিতে পারেন না। তবুও তারা দায়িত্ব থেকে পিছপা হন না। ২০১৪ সালে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট থাকার সময় তিনি সাংবাদিক কল্যাণ ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নেন এবং নিজেই অর্থ দিয়ে সেই ফান্ডের যাত্রা শুরু করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল- কোনো সাংবাদিক মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবার যেন অন্তত কিছুটা সহায়তা পায়।
সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘আমি চুয়াডাঙ্গা থেকে কিছু নিতে আসিনি, চুয়াডাঙ্গাকে কিছু দিতে এসেছি। আপনারা যদি আমাকে সহযোগিতা করেন, তাহলে আমি এই জেলার পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে চাই।’ তিনি বলেন, নিজের যোগ্যতা ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কই তার মূল শক্তি। শূন্য থেকে শুরু করে আজ তিনি এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।
চুয়াডাঙ্গার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে গোয়েন্দা সংস্থা সবাই জানে আমি চুয়াডাঙ্গাতে অবস্থান করছি। যত ইন্টারন্যাশনাল সংস্থা আছে তারা জানে আমি বাংলাদেশের অবস্থান করছি। আমি এমনি এমনি আসিনি। বাংলাদেশে আমি একটি মিশন নিয়ে এসেছি। আমি চেষ্টা করব এই বাংলাদেশের কিছু না হলেও যেন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়। আমি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যেকটা সদস্যকে বলতে চাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, মাদক সমাজে যারা হানাহানি করে তাদের কোন দল নেই। আইন দিয়ে তাদেরকে ধরেন আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করব। আমি প্রশাসনকে বলছি, যে যে দলই করুক না কেন প্রত্যেককে আইনের আওতায় নিয়ে আসেন। আমি শুনেছি আলমডাঙ্গার দিকে মানুষ যে যেখানে সুবিধা পাচ্ছে সে সেখানে সেই দলে যোগ দিচ্ছে এবং মাস্তানি করা শুরু করছে।
তিনি আরোও বলেন, আমি শরীফুজ্জামান শরীফকেও বলতে চাই, জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেলকে বলতে চাই, আপনারা যদি এই চুয়াডাঙ্গাতে এমপি ইলেকশন শান্তভাবে না করতে পারেন, আপনাদের সামর্থকরা যদি হানাহানি মারামারিতে জড়ায়, যদি কোন রক্তপাত হয়, সে জামায়াত হোক বিএনপি হোক অন্য দল হোক কেউ বিন্দুমাত্র ছাড় পাবেন না। সঠিক তদন্ত করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। রাজনৈতিক গোলমাল বলে চালিয়ে দেবেন ওই পরিবারের যে সন্তানটি এতিম হল, যে সন্তানটি সারা জীবনের জন্য তার বাবাকে ডাকতে পারবেনা, যে মেয়েটি বিয়ের সময় তার বাবার কাছ থেকে বিদায় নিতে পারবে না, সেই মূল্য আপনি কিভাবে দিবেন। যারা সমর্থক আছেন তাদেরকে আমি বলতে চাই শরীফ সাহেবকে খুশি করার জন্য, রাসেল সাহেবকে খুশি করার জন্য, যারা হানাহানিতে জড়াবেন ক্ষতি কিন্তু তাদের হবে। শরীফ সাহেবেরও কিছু হবে না, রাসেল সাহেবেরও কিছু হবে না। আপনার যদি জীবন চলে যায় ভুক্তভোগী হবে আপনার পরিবার। কেউ কোন হানাহানিতে জড়াবেন না। যাকে খুশি তাকে ভোট দিবেন যাকে মনে চায় তাকে এমপি বানাবেন। শেষে তিনি জেলার উন্নয়নের জন্য তার ভাইয়ের জন্য ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।
অনুষ্ঠানে শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোওয়াত করেন দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দার। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যের পূর্বে সভাপতির বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপন। এছাড়াও অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক মাথাভাঙ্গার সম্পাদক সর্দার আল আমিন, সাংবাদিক সমিতিরি সাধারন সম্পাদক হুসাইন মালিক, দৈনিক পশ্চিামাঞ্চল সম্পাদক আজাদ মালিতা, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আজকের চুয়াডাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক বিপুল আশরাফ প্রমুখ।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি রফিক রহমান, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সহ-সভাপতি পলাশ উদ্দীন, প্রেসক্লাবের সহ-সম্পাদক জহির রায়হান সোহাগ, অর্থ সম্পাদক জামান আকতার, প্রচার সম্পাদক মাহফুজ মামুন, সিনিয়র সাংবাদিক কামাল উদ্দিন জোয়ার্দ্দার, মিজানুল হক মিজান, মাহফুজ উদ্দিন খান, শেখ সেলিম, আবুল হাসেম, রিফাত রহমান, আলমগীর কবির শিপলু, মশিউর রহমান মিশু, খায়রুল ইসলাম, শামসুজ্জোহা রানা, ডালিম, আশরাফুল আলম, শেখ সাদী, রুবায়েত বিন আজাদ সুস্থির, সাইফ জাহান প্রমুখ।
সিআইপি নির্বাচিত হওয়ায় সাহিদুজ্জামান টরিককে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান



