স্টাফ রিপোর্টার:
শিশুরা সবচেয়ে বেশি অনুকরণপ্রিয়। তারা যা দেখে, তাই অনুসরণ করতে চায় এবং সেটাকেই নিজেদের আদর্শ মনে করে। তাই শিশুদের সামনে বাবা-মাকে আদর্শ আচরণ প্রদর্শন করতে হবে। বাবা যেন ধূমপান না করেন, খারাপ ভাষা ও কটু কথা ব্যবহার না করেন। কারও সঙ্গে দেখা হলে সালাম দেওয়া, আদব করে কথা বলা, কিছু পেলে ধন্যবাদ জানানো—এ ধরনের নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষা শিশুদের দিতে হবে। এসব বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
গতকাল চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত মা সমাবেশ, মিড ডে মিল কার্যক্রম, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “বাড়ি হলো শিশুর সবচেয়ে বড় স্কুল। শিশুরা অধিকাংশ সময় বাড়িতেই থাকে এবং সেই স্কুলের শিক্ষক হলেন বাবা-মা। আপনি যদি ভালো শিক্ষা দেন, সন্তানও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। এর ফলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে সামগ্রিক উন্নয়ন আসবে। তখন আমরা একটি আধুনিক ও উন্নত রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারব।”
শিশুদের মানসিক বিকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, “শুধু খাওয়ানোর জন্য শিশুদের হাতে মোবাইল তুলে দেবেন না। তাদের গল্প বলুন—নিজের জীবনের গল্প, মনীষীদের গল্প, যাঁরা শূন্য থেকে পরিশ্রমের মাধ্যমে সফল হয়েছেন, তাঁদের গল্প। এতে শিশুরা অনুপ্রাণিত হবে। মা যদি সারাক্ষণ মোবাইল দেখেন বা ভিডিও তৈরি করেন, সন্তানও সেই পথেই আগ্রহী হবে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে চালু রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ভোট দেওয়া মানে রাষ্ট্রের কল্যাণ, শিক্ষা ও নারীর অগ্রগতির পক্ষে অবস্থান নেওয়া। ভালো কিছু চাইলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন, না চাইলে ‘না’ ভোট দেবেন।” তিনি যোগ্য ও সৎ জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধশালী করার আহ্বান জানান।
উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিদ্যালয়ের মুক্ত মঞ্চে উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ লাইনের আর আই আব্দুস সামাদ, বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও সাবেক সহসভাপতি মনিরুজ্জামান সোহেল। অনুষ্ঠানে বিদায়ী অতিথি হিসেবে সম্মাননা গ্রহণ বক্তব্যদেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হোসনে আরা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম। তিনি মা সমাবেশে উপস্থিত অভিভাবকদের গণভোট বিষয়ে অবহিত করেন এবং ‘হ্যাঁ–না’ ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এর আগে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। পরে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো ও ব্যাজ পরিধান করানো হয়। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জয়নব আফরিন ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. বক্কর। বিদায়ী অতিথির উদ্দেশে মানপত্র পাঠ করে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাইমুম আলম ফাইম।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে প্রধান অতিথি বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।



