চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতায় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার  
চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়োজনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি) বি.এম. তারিক-উজ-জামান। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও গীতাপাঠ এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্ববোধক গান পরিবেশন ও নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলেন।
  কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি শিক্ষিকা নুসরাত জাহান করবির সঞ্চায়লনায় পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে একটি বিষয় খুব কাছ থেকে লক্ষ্য করেছি অনেক ছোট ছোট শিক্ষার্থী প্রতিদিন সকালের নাস্তা না করেই স্কুলে আসে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এ ক্ষেত্রে অনেক মা কিছুটা উদাসীন থাকেন। আমি সকল মায়েদের উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে অনুরোধ করতে চাই আপনারা আপনাদের সন্তানের প্রতি আরও যত্নশীল হবেন। প্রতিদিন সকালে অবশ্যই সন্তানকে পুষ্টিকর নাস্তা খাইয়ে স্কুলে পাঠাবেন। পাশাপাশি দুপুরের খাবারের জন্য টিফিন দিয়ে দিবেন। স্কুলে কিছু কিনে খাওয়ার জন্য কখনোই বাচ্চাদের হাতে টাকা দেবেন না।
  তিনি আরোও বলেন, সুস্থ বিনোদন হচ্ছে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়া। শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি  বিভিন্ন প্রতিযোগীতায় অংশ নিলে নতুন জীবন গড়া সম্ভব হবে। মানসিক বিকাশের জন্য লেখাপড়া খেলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা চালিয়ে যেতে হবে। জিততে না পারা হেরে যাওয়া নয়। প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়াটাই জিতে যাওয়া। প্রতিটা শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান মুখি হয়ে উঠতে হবে। ভালো লেখাপড়া করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান শিক্ষার্থীদের প্রতি। লেখাপড়া ও খেলাধুলার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। শিক্ষার্থীদের গল্পের মধ্যে নতুন কিছু খুঁজতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানে যে সকল শিক্ষক কর্মরত আছেন, আমি জানি তাঁরা অত্যন্ত দক্ষ ও দায়িত্বশীল। চলতি বছর আমাদের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে আমরা আরও নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেব। এই স্কুলে এমন একটি মানসম্মত বিজ্ঞানাগার তৈরি হবে, যা চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্য কোথাও নেই। তবে শুধু বিজ্ঞানাগার নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। বিজ্ঞান পড়ানো শিক্ষকদের প্রতি আমার বিশেষ অনুরোধ আপনারা শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানাগারে নিয়ে গিয়ে হাতে-কলমে বিষয়গুলো বুঝিয়ে দেবেন। শিক্ষার্থীরা যখন বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বিজ্ঞান শিখবে, তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠবে।
বিশেষ অতিথির বক্ত্যব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, লেখাপড়ার সঙ্গে যদি আনন্দ যুক্ত হয়, তাহলে সেই লেখাপড়া হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়, আরও অর্থবহ। তখন তা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং হৃদয়ে গেঁথে যায়। দুঃখজনকভাবে আমরা অনেকেই আমাদের শিক্ষা জীবনে আনন্দকে খুব বেশি জায়গা দিইনি। আমরা একমুখীভাবে বিদ্যা অর্জনের দিকে ঝুঁকেছি, আনন্দময় শিক্ষার সুযোগ অনেকটাই কম ছিল। কিন্তু বিদেশে আমরা দেখি লেখাপড়ার পাশাপাশি থাকে বিনোদন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা। এগুলো একজন শিক্ষার্থীর মস্তিষ্ক ও মানসিকতাকে পরিপূর্ণভাবে বিকশিত করে। আজ তোমাদেরকে দেখে আমার নিজের ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। ছোটবেলায় স্কুলে খেলাধুলার আয়োজন হলে আমাদের কত আনন্দ হতো। আমরা দৌড়াতাম, খেলতাম, হাসতাম আর সেই স্মৃতিগুলো আজও মনে গেঁথে আছে।
সভাপতির বক্ত্যব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তারিক-উজ-জামান বলেন, আজকের এই দিনটি তোমাদের ন্যায্য অধিকার ও হক। প্রতিবছর এই সুন্দর দিনটি সবার জীবনে আসে নতুন করে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য। নতুন বছরে নতুন প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে। এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয় নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা।
গত ২২ জানুয়ারি কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগীতায় অংশ নেয়া বিজয়ী ১৫০ শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে আরোও উপস্থিত ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড.মুন্সি আবু সাইফ, সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল নাঈম ও নুসরাত জাহান, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জেসমিন আরা, প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের অধ্যক্ষ শহিদুল আলম প্রমুখ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।