স্টাফ রিপোর্টার
‘সচেতন, সংগঠিত ও সোচ্চার জনগোষ্ঠীই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ’—স্লোগানে চুয়াডাঙ্গায় এক অনন্য জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সুজন- সুশাসনের জন্য নাগরিক চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির উদ্যোগে এবং সুন্দরবন থিয়েটারের নান্দনিক পরিবেশনায় জেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পৃথক তিনটি পথনাটক অনুষ্ঠিত হয়। মূলত নাগরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং একটি অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই সৃজনশীল প্রচারণার আয়োজন করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন জনবহুল কেন্দ্রে এই নাট্য প্রদর্শনী চলে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় সরোজগঞ্জ বাজার থেকে নাটকের সূচনা হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় ডিঙ্গেদহ বাজার এবং সবশেষে বিকেল তিনটায় চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ হাসান চত্বরে সমাপনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি প্রদর্শনীতেই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। হাটে-বাজারে আসা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ মন্ত্রমুগ্ধের মতো নাটকের বার্তাগুলো গ্রহণ করেন।
তিনটি স্থানেই প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও সুজন জেলা কমিটির সভাপতি প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র কেবল ভোটের দিন প্রয়োগ করার বিষয় নয়; এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। সাধারণ মানুষ যখন নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন ও সোচ্চার হবে, তখনই প্রকৃত গণতন্ত্রের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছাবে। একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে নাগরিকের দায়বদ্ধতা অপরিসীম।
অনুষ্ঠানে সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন সুজনের ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর সাংবাদিক মেহেরাব্বিন সানভী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুজন বন্ধু আবু বকর সৈকত, সোহানুর রহমান সোহান, নাজমুল ইসলাম সামি এবং নাজমুল ইসলাম শান্ত। সুন্দরবন থিয়েটারের কুশলী শিল্পীদের প্রাণবন্ত অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটে ওঠে ভোটের গুরুত্ব ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা। শিল্পীদের নিপুণ শৈলীতে উঠে আসা সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট দর্শকদের মধ্যে গভীর আবেগ ও চিন্তার খোরাক যোগায়।
আয়োজকরা জানান, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের মাঝে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মানসিকতা তৈরি করাই এই পথনাটকের মূল লক্ষ্য। প্রতিটি প্রদর্শনীর শেষে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠান শেষে সুন্দরবন থিয়েটার ও সুজনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ গণতন্ত্রের এই যাত্রায় সবাইকে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।
চুয়াডাঙ্গায় সুজনের ব্যতিক্রমী পথনাটক প্রদর্শিত



