আলমডাঙ্গার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগে বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান

স্টাফ রিপোর্টার
আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর, বাড়াদী ও জেহেলা ইউনিয়নের গ্রাম থেকে গ্রাম, বাজার থেকে স্কুল মাঠ- সবখানেই যেন একই দৃশ্য। বিকেলের নরম রোদে সাধারণ মানুষের ভিড়, হাতে হাত মিলিয়ে কুশল বিনিময়, চোখে চোখ রেখে কথা বলার আন্তরিকতা আর মুখে মুখে ধানের শীষের কথা। এমনই এক প্রাণবন্ত রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যদিয়ে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ টানা গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় খাদিমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পথসভার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। স্কুল মাঠে জড়ো হওয়া নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, দেশের মানুষ আর অন্ধকারে থাকতে চায় না, তারা পরিবর্তন চায়- ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়।
এরপর খাদিমপুর ইউনিয়নের আলিহাটনগর মোড় ও লক্ষ্মীপুর গ্রামে গণসংযোগ করেন তিনি। পথে পথে সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কুশল বিনিময় করেন, শোনেন তাদের অভাব-অভিযোগ, উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার কথা। বাড়াদী ইউনিয়নের নতিডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পথসভা এবং পোলতাডাঙ্গা ও এনায়েতপুর বাজার মোড়ে গণসংযোগে অংশ নিলে জনসমাগম আরও বেড়ে যায়।
জেহেলা ইউনিয়নের মাদারহুদা বাজার মোড়, অঘরনাথপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও গড়গড়ি মোড়েও একই চিত্র দেখা যায়। মানুষের চোখে ছিল আশা, কণ্ঠে ছিল প্রত্যাশা। শরীফুজ্জামান শরীফ প্রতিটি স্থানে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে বলেন, এই প্রতীক শুধু একটি দল নয়- এটি গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতীক।
পথসভায় শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আজ আমি আপনাদের সামনে কোনো শাসক হিসেবে নয়, একজন সহযোদ্ধা হিসেবে দাঁড়িয়েছি। আমি আপনাদেরই সন্তান, আপনাদেরই কণ্ঠস্বর। দীর্ঘ সময় ধরে এ দেশকে ভয়, দমন-পীড়ন আর ভোটাধিকার হরণের রাজনীতিতে বন্দি করে রাখা হয়েছে। মানুষ কথা বলতে পারেনি, ভোট দিতে পারেনি, নিজের অধিকার আদায় করতে পারেনি। বিএনপি সবসময় এই দেশের মানুষের অধিকার ও মর্যাদার রাজনীতি করেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার চেতনাকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে রূপ দিয়েছিলেন। আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বারবার গণতন্ত্রের জন্য কারাবরণ করেছেন। আজ তারই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা আবার মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিতে চাই- আপনারা যদি আমাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, তাহলে আমি আলমডাঙ্গা ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনকে অবহেলার এলাকা নয়, উন্নয়ন ও ন্যায়ের এলাকায় পরিণত করব। কৃষকের ন্যায্য দাম, যুবকদের কর্মসংস্থান, শিক্ষার মানোন্নয়ন, চিকিৎসা সেবা- সবকিছুতেই আমি আপনাদের পাশে থাকব।’
ধানের শীষের প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘আজ আপনারা যে ভালোবাসা ও সমর্থন দেখাচ্ছেন, তা আমার জন্য শুধু ভোট নয়- এটি দায়িত্ব, এটি অঙ্গীকার। আসুন, আমরা সবাই মিলে ভয়কে জয় করি, অন্যায়কে প্রত্যাখ্যান করি এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করি।’
গণসংযোগ ও পথসভায় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিরুল ইসলাম সেলিম, জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব ও বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন, জেলা জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, খাদিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সভাপতি শরিফুল ইসলাম টোকন, খাদিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহজালাল ব্যানা, জেহেলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহেদুজ্জা মিল্টন, খাদিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেরেগুল ইসলাম বিশ্বাস, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল মজিদ মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক লালন ইসলাম, বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি বকুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শুকুর আলী, জেহেলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন খান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এহসানুল হক স্বরাজ, জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মখলেছুর রহমান মুকুল, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি খন্দকার আরিফ, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবেক দলের সদস্যসচিব রাজু আহমেদ, আলমডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাসেল আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কৌশিক আহমেদ রানা প্রমুখ।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।