স্টাফ রিপোর্টার
মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট।
চুয়াডাঙ্গায় ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দলীয় জোট যদি ক্ষমতায় যায়, তবে সর্বস্তরের মানুষের জন্য সমান ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। একজন সাধারণ কৃষক বা মেহনতি মানুষ অন্যায় করলে যে শাস্তি পাবে, একজন রাষ্ট্রপতি একই অন্যায় করলে তাকেও একই শাস্তি পেতে হবে। এখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। গতকাল সোমবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় চুয়াডাঙ্গা ফুটবল মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চুয়াডাঙ্গায় বিশাল এ নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে বেলা ২টার সময় চুয়াডাঙ্গা চাঁদমারি মাঠে হেলিকপ্টার যৌগে পৌছান ডা. শফিকুর রহমান। পরে বিকাল সাড়ে ৪টায় ঐতিহাসিক টাউন ফুটবল মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।
এসময় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী হিমালয় পর্বতের সামনেও মাথা নত করেনা। মাথানতো করে শুধু মহান আল্লাহ তালার সামনে। সুতরাং আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়ে কোন লাভ নেই। মনে রাখবেন আমাদের জীবনের চাইতে আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতের দাম আমাদের কাছে অনেক বেশি। বেয়াদবি করলে আগুনের ফুলকি দেখতে পাবেন। যদি কেউ ফ্যাসিবাদী চেহারা নিয়ে আমাদের সামনে আসে, ২৪ এর ফ্যাসিবাদকে দেশের সম্মিলিত জনগণ যেভাবে লাল কার্ড দেখিয়েছে আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনেও সেভাবেই লাল কার্ড দেখানো হবে। শহীদ ওসমান হাদী জুলাই আন্দোলনের আরেক নায়ক। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বজ্রকন্ঠ। কখনো আপোষ করে কথা বলে নাই, তাকে সহ্য করতে না পেরে দুনিয়া থেকে তাকে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা জনগণের সম্পদ চুরি করেছে, লুটপাট করেছে, বিদেশে বেগম পাড়া তৈরি করেছে, নিজেদের জন্য সিঙ্গাপুর এবং কানাডা বানিয়েছে আর বাংলাদেশকে সমুদ্রের তলে ডুবিয়ে দিয়েছে। আমরা ওই সমুদ্রের তলদেশ থেকে বাংলাদেশকে উপরে উঠাতে চাই। জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় গেলে কোন নেতাকর্মীর সম্পদ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে না। এ জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবছর জনগণের সামনে তাদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব দিতে বাধ্য থাকিবে। যে জাতি মায়েদেরকে সম্মান করবে সে জাতির সম্মানের আসন আল্লাহ তালা তৈরি করে দেবেন। আমরা আমাদের মায়েদের সম্মান, মর্যাদা এবং নিরাপত্তা ঘরে, চলাচলে এবং কর্মক্ষেত্রে কোন জায়গাতেই নিশ্চিত করব ইনশাল্লাহ।
তিনি আরো বলেন, আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না, আমরা বেকারদের সম্মান দিতে চাই। চুয়াডাঙ্গাসহ সারা দেশে যেসব শিল্পকারখানা বন্ধ রয়েছে, সেগুলো চুরি, চামারি, টেন্ডারবাজি ও অনিয়মের কারণে বন্ধ হয়েছে। এসব অনিয়ম বন্ধ করা গেলে এমনিতেই কারখানাগুলো চালু হয়ে যাবে এবং সেখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। দেশ উৎপাদনে এগিয়ে যাবে। নতুন নতুন কারখানা গড়ে উঠবে, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কর্মসংস্থানের মাধ্যমেই আমরা এই দেশকে সমৃদ্ধ করব।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চিরতরে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে চাই। আমরা আমাদের সঙ্গে নিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ উপহার দিতে চাই যেখানে থাকবে ইনসাফ, থাকবে দুর্নীতিমুক্ত ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ। আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র গঠন করলে ইনসাফ কায়েম হবে, দেশ হবে সমৃদ্ধির বাংলাদেশ। অনেক জায়গায় আমাদের নারী কর্মীদের উপর হামলা করা হচ্ছে এটি আসলে কাম্য নয় যারা নিরীহ মা বোনদের কাছে হামলা করে তারা কখনো সভ্য মানুষ হতে পারে না। আমরা কোন রক্তচক্ষু ভয় পাই না সকল বাধা উপেক্ষা করে বিজয় সন্নিকটে ইনশাআল্লাহ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষার্থীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ইসলামী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে তরুণ সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। একটি সুন্দর সুষ্ঠু সমাজ গঠনে জামায়াত ইসলামীর বিকল্প নেই।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ জুলুম, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের শিকার হয়েছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো ১১ দলীয় জোটকে বিজয়ী ও হ্যাঁ ভোট দেওয়া। আমরা এদেশের মানুষের পাশে থাকতে চাই , আর কারোর গোলামী দাসত্ব করতে চাই না।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ২ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোঃ রুহুল আমিন বলেন আপনারা সকল দলের শাসন দেখেছেন। কারা কেমন আপনারা ভালো জানেন। আপনাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে ন্যায় ইনসাফ বৈষম্যহীন দেশ গড়তে আমাদের সাথে থাকুন আমরা কথা দিচ্ছি কৃষি প্রধান এই জেলায় কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘব করা হবে, হানাহানি মারামারি চাঁদাবাজির ঠাঁই হবেনা, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে, মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের এই চুয়াডাঙ্গা জেলায় কৃষকদের জন্য কোন গবেষণা ইনস্টিটিউট নেই। মাটি পরীক্ষার জন্য কোন মাটি গবেষণা ইনস্টিটিউট নেই। আমাদের পণ্যকে সুন্দরভাবে দেখার জন্য কোন গবেষণা ইনস্টিটিউট নেই। আমাদের চুয়াডাঙ্গা ২ আসনে একটি মাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে যেটি এশিয়া মহাদেশ সবচেয়ে বৃহৎ প্রতিষ্ঠান কেরু এন্ড কোম্পানি, ৩৭ হাজার হেক্টর জমির উপরে এই কোম্পানিটি দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু এই কোম্পানিটি চলে এখন খুরিয়ে খুরিয়ে। আমরা জামায়াতের আমিরের কাছে বলতে চাই আমরা আপনাকে দুইটি আসনই দেব, বিনিময় আপনি আমাদের এই জেলাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন, আপনার কাছে আমাদের এটাই দাবি।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, চুয়াডাঙ্গাকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও সুশাসনের বিকল্প নেই। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চুয়াডাঙ্গায় বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। বেকারত্ব মুক্ত, দূর্নীতি চাঁদাবাজ মুক্ত চুয়াডাঙ্গা গড়া হবে আপনাদের নিয়ে।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মোল্লা মো. ফারুক এহসান, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি আলমগীর হোসেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা আহ্বায়ক তানভীর রহমান অনিক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা জুবায়ের খান, এনসিপির চুয়াডাঙ্গা জেলা সেক্রেটারি (প্রস্তাবিত) সোহেল পারভেজ, ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ চুয়াডাঙ্গার আহ্বায়ক মাহফুজ হোসেন এবং দামুড়হুদা উপজেলা বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের সদস্য সচিব মনোরঞ্জন দাস।
এর আগে বেলা ৩টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক জেলা আমির আনোয়ারুল হক মালিক, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি সাগর আহমেদসহ উপজেলা আমির ও জেলা কর্মপরিষদের সদস্যরা।
এদিকে বেলা ২টা থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নেতা কর্মিরা টাউন ফুটবল মাঠে জড়ো হতে থাকে। বেলা ৪টার আগেই ফুটবল মাঠটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়, মানুষের চাপ রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনী সভা শেষে জনসভায় আগত নেতা কর্মিদের উপস্থিততে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থী এ্যাড. মাসুদ পারভেজ রাসেল ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী রুহুল আমিনের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রর্তীক তুলে দেন জামায়াতের আমীর। এ সময় তিনি আগামী ১২ ফ্রেব্রুয়ারী সংসদ নির্বাচনে ইনসাফের প্রর্তীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহবান জানান। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে চুয়াডাঙ্গা ত্যাগ করেন।
মেহেরপুর অফিস জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লাহর কসম ক্ষমতায় গেলে জনগণের সম্পদের ওপর হাত দেবো না। গতকাল সোমবার দুপুরে মেহেরপুর জেলা জামায়াত ইসলাম আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। জামায়াত আমির বলেন, ‘জামায়াত ইসলামকে বিজয় করলে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠন করা হবে।’ জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক দলকে দেখেছেন অন্তত একটিবার জামায়াত ইসলামকে সুযোগ দিয়ে দেখেন। আমরা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে পারি কিনা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে চার দলীয় জোট সরকারের সময় জামায়াত ইসলামের পক্ষ থেকে দুজন মন্ত্রী ছিলেন তারা শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন। তাই চাঁদাবাজ সন্ত্রাস ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গঠনে জামাত ইসলামকে ভোটদান করতে হবে।’
মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমির ও মেহেরপুর-১ (সদর-মুজিবনগর) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাও. তাজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের প্রার্থী মাও. নাজমুল হুদা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক সেক্রেটারি মাও. রুহুল আমিনের সঞ্চলনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন, সদর উপজেলা আমির সোহেল রানা, মেহেরপুর পৌর আমির সোহেল রানা ডলার। এছাড়াও মুজিবনগর উপজেলা আমির খান জাহান আলী, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাড. শাকিল আহামেদ, জেলা এবি পার্টির আহবায়ক রফিকুজ্জামান, জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাও হুসাইন আহমেদসহ ১০ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
জনসভায় জেলার তিন উপজেলা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াত আমির বক্তব্য শেষে মেহেরপুর-১ (সদর-মুজিবনগর) আসনে মাও. তাজ উদ্দিন খান ও মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে মাও. নাজমুল হুদা দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন জমায়াত আমির।
ঝিনাইদহ অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা অনৈক্য নয়, বিভক্তি নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই। ২৪ শে যেমন বাংলাদেশের মানুষ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, ঠিক তেমনি ভাবে ২৬ শে ভোটের মাধ্যমে দেশে বিপ্লব ঘটাতে হবে। যদি কেউ রাজনৈতিক লেবাস পড়ে জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, তবে তাদের হাতের আঙ্গুল ভেঙ্গে দেওয়া হবে। এদেশে আর ফ্যাসিবাদ কারো ঘাড়ে ভর করে আসতে দেওয়া হবে না।
জামায়াতের আমির গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের উজির আলী হাইস্কুল মাঠে এক বিরাট নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর।
জামায়াতের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান আরো বলেন, ৫ আগষ্টের পর ঝিনাইদহে নাকি চাঁদার রেট বেড়ে গেছে। যারা চাঁদাবাজী করেন, তাদের লজ্জা হওয়া উচিৎ। কারণ একজন মানুষ খেটে খেটে টাকা উপার্জন করেন, আর আপনারা তাতে ভাগ বসান। চাঁদাবাজদের ভিক্ষার পরামর্শ দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন চাঁদাবাজী হারাম, কিন্তু ভিক্ষা হারাম নয়। ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে সিন্ডিকেট করে চাঁদাবাজী করা হতো। এতে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদকে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে তাড়িয়েছি। কেউ আবার আসতে চাইলে রুখে দেব। কারণ স্ত্রী তার স্বামী, মা তার সন্তান হারিয়ে জাতির ঘাড়ে চেপে বসা জগদ্দল পাথরকে সরিয়েছে।
জামায়াতের আমির বলেন, আমরা নিজে সম্পদ বৃদ্ধি করবো না, বরং ক্ষমতায় গেলে দেশের জনগনের সম্পদ বৃদ্ধি করবো। দেশের টাকা যারা চুরি করেছে তাদের পেটের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে বের করা হবে। দেশে চিরতরে চুরি বন্ধ করা হবে। জামায়াতের আমির ঝিনাইদহ জেলাকে সবচে বড় শহিদী দরগাহ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই জেলায় জালিম শাকদের হাতে সোহানের মতো করুণ যুবকরা খুন হয়েছে। হত্যার পর তার হাতের নখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল। আমি খুন হওয়া পরিবারগুলোর পাশে থাকতে চাই।
সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের প্রার্থী আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-১ আসনের প্রার্থী আবু ছালেহ মোঃ মতিউর রহমান, ঝিনাইদহ-৩ আসনের প্রার্থী মতিয়ার রহমান ও ঝিনাইদহ ৪ আসনের প্রার্থী আবু তালিবের হাতে দাড়িপাল্লা প্রতিক তুলে দিয়ে জনগণকে ভোট দেওয়ার আহবান জানান।
চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান



