মেহেরপুর অফিস
মেহেরপুরে সেনাবাহিনীর তল্লাশিতে উদ্ধারকৃত মালামাল অস্ত্র নয়—এমন নিশ্চিত হওয়ার পর আটক তিনজনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় যাচাই-বাছাই শেষে সেলিম রেজা, সাহারুল ইসলাম ও ইজারুল হককে মুক্তি দেওয়া হয়।
এর আগে সোমবার সকাল ১০টার দিকে মেহেরপুর শহরের হোটেল বাজার মোড়ে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালিয়ে সেনাবাহিনী ওই তিনজনকে আটক করে। তল্লাশিকালে গাড়ি থেকে কয়েকটি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের মেহেরপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—মেহেরপুর সদর উপজেলার কামদেবপুর গ্রামের সাবদার আলীর ছেলে সাহারুল ইসলাম, খোকসা গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে সেলিম রেজা এবং মোনাখালী গ্রামের বাসিন্দা ও মাইক্রোবাসচালক ইজারুল হক।
দিনভর উদ্ধারকৃত মালামাল নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হয়, উদ্ধার হওয়া মালামালগুলো কোনো ধরনের অস্ত্র নয়; বরং সমাবেশে ব্যবহারের জন্য আনা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। এরপর সন্ধ্যায় আটক তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মেহেরপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিএম রানা জানান, যৌথবাহিনীর নিয়মিত চেকপোস্টের অংশ হিসেবে গাড়ি তল্লাশি চলছিল। এ সময় সাদা রঙের একটি নোয়া মাইক্রোবাস (ঢাকা মেট্রো-চ ১৯-৪১৪৬) তল্লাশি করে ৩টি ফোল্ডেবল স্টিক, ১টি কুড়াল, ১টি ইলেকট্রিক শকার, ১টি প্লাস, ৩টি ওয়াকিটকি, ৪টি চার্জার ও ১টি হ্যান্ড মাইক উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে। গাড়িটি জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজউদ্দিন খান ব্যবহার করতেন বলেও জানান তিনি। তবে উদ্ধারকৃত সামগ্রী প্রাণঘাতী অস্ত্র নয়—এমন নিশ্চিত হওয়ার পর আইনানুগভাবে তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, উদ্ধার হওয়া মালামাল কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র নয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এসব সরঞ্জাম সমাবেশস্থলে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই আনা হয়েছিল।
জেলা জামায়াতের প্রতিবাদ
এ বিষয়ে সন্ধ্যায় মেহেরপুর জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন। সোমবার সন্ধ্যায় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত ইসলামীর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানান ষড়যন্ত্র চলছে। মেহেরপুর জেলা জামায়াতের বিরুদ্ধে এমনই একটি প্রপাগান্ডা করা হয়েছে। যেখানে প্রয়োজনীয় কিছু টুলস কিটকে অস্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল ১০টার দিকে মেহেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা তাজউদ্দিন খানের গাড়িটি জেলা জামায়াতের অফিস থেকে তার বাড়ির উদ্দেশ্য যাচ্ছিল। পথিমধ্যে একজন সাংবাদিক ও একজন দর্শনার্থীকে তুলে নেন গাড়ির চালক।
জেলা আমিরের বাড়িতে যাওয়ার পথে শহরের হোটেল বাজার এলাকার মোড়ে গাড়িটি গতিরোধ করে সেনাবাহিনী। সেখানে গাড়িতে থাকা কিছু নিয়মিত ব্যবহৃত জিনিস ও আত্মরক্ষামূলক দ্রব্যাদিকে অস্ত্র হিসেবে দেখানো হয়। গাড়িসহ তিনজনকে জব্দ করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে থানায় সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে প্রাণঘাতি না হওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এগুলো কোনমতেই অস্ত্র নই বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
বিষয়টি অতিরঞ্জিত করে কিছু গণমাধ্যমে এবং কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার করছেন। সেখানে এগুলোকে অস্ত্র হিসেবে দেখানো হচ্ছে যা বাস্তবতার পুরাই বিপরীত। প্রতিপক্ষ বিষয়টি অপব্যক্ষার মাধ্যমে মানুষকে ভূল বোঝানোর চেষ্টা করছে।
আটকের বিষয়ে প্রশ্ন তুলল তিনি বলেন, জামায়াতের আমিরের জনসভায় ব্যস্ততার কারণে পুলিশের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে তাদের থানা থেকে ছাড়াতে বিলম্ব হয়। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।
জামায়াতের জনসভায় যাওয়ার পথে উদ্ধারকৃত মালামাল অস্ত্র না হওয়ায় আটক তিনজনকে ছেড়ে দিল পুলিশ ঘটনার প্রতিবাদে মেহেরপুর জেলা জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন



