পদ্মবিলা, মোমিনপুর ও কুতুবপুর ইউনিয়নে গণসংযোগে শরীফুজ্জামান শরীফের

স্টাফ রিপোর্টার
গ্রামবাংলার চিরচেনা বিকেল। রাস্তার দু’পাশে জড়ো হওয়া মানুষ, কোথাও দোকানের বেঞ্চে বসে কৌতূহলী দৃষ্টি, কোথাও আবার শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস। সেই পরিবেশে ধানের শীষের প্রতীক হাতে নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে গেলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।
গতকাল রবিবার বিকেল ৪টায় সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়নের বুইচিতলা মোড় থেকে শুরু হয় তার গণসংযোগ ও পথসভা। সেখান থেকে একে একে পদ্মবিলা ইউনিয়নের বেলেকান্দী বাজার, মোমিনপুর ইউনিয়নের নীলমনিগঞ্জ বাজার, সরিষাডাঙ্গা গ্রামের বটতলার মাঠ, কুতুবপুর ইউনিয়নের সরোজগঞ্জ তেল পাম্পের পাশের এলাকা ও বদরগঞ্জ বাজারে পথসভা ও গণসংযোগে অংশ নেন তিনি।
গণসংযোগকালে শরীফুজ্জামান শরীফ সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, প্রবীণদের হাতে হাত রাখেন, শিশুদের মাথায় স্নেহের স্পর্শ দেন। কোথাও তিনি দাঁড়িয়ে শুনেছেন মানুষের অভিযোগ, কোথাও আবার গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের না বলা কষ্ট। তার সঙ্গে থাকা দলীয় নেতা-কর্মীদের চোখেমুখেও ছিল প্রত্যাশার দীপ্তি।
পথসভাগুলোতে শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, প্রিয় চুয়াডাঙ্গাবাসী, আজ আমি আপনাদের কাছে এসেছি কোনো ক্ষমতার লোভ নিয়ে নয়, এসেছি আপনাদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে। বহু বছর ধরে এই দেশ ও এই জনপদ অন্যায়, অবিচার আর দুঃশাসনের ভার বয়ে চলেছে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, ন্যায়বিচারকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার কৃষক তার ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় না, শ্রমিক তার ঘামের দাম পায় না, তরুণ তার যোগ্যতার সম্মান পায় না। মা-বোনেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন নীরবে কষ্ট সহ্য করে। আমি আপনাদের সেই নীরব কষ্টের ভাষা হতে চাই।
তিনি আরও বলেন, ধানের শীষ শুধু একটি প্রতীক নয়- ধানের শীষ মানে বাঁচার অধিকার, ধানের শীষ মানে ন্যায়বিচার, ধানের শীষ মানে গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম। আপনারা যদি আমাকে আপনাদের পাশে থাকার সুযোগ দেন, আমি কথা দিচ্ছি- চুয়াডাঙ্গার মানুষের স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করব না।
শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে ভোট হবে উৎসব, যেখানে প্রশাসন হবে নিরপেক্ষ, যেখানে আদালত হবে ন্যায়বিচারের আশ্রয়স্থল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছিলেন- সেই বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনাই আমাদের লড়াই।
বক্তব্যের একপর্যায়ে উপস্থিত জনতা করতালি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। অনেকেই শরীফুজ্জামানের সঙ্গে কোলাকুলি করেন, কেউ কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন- দীর্ঘদিন পর তারা রাজনীতিতে মানুষের কথা বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন।
এসব পথসভায় সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু। উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য অ্যাড. ওয়াহিদুজ্জামান বুলা, খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক  সফিকুল ইসলাম পিটু, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাড. এম এম শাহজাহান মুকুল, সাবেক সভাপতি অ্যাড. শামিম রেজা ডালিম, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এম. জেনারেল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুব হক মহাবুব, সদর উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক সাজিবর রহমান, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম, সদর উপজেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, পদ্মবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম সরোবর জোয়ার্দার হিমু, সিনিয়র সহসভাপতি সালাউদ্দীন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রায়হান কাজল, যুগ্ম সম্পাদক আজিবর মেম্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, মোমিনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান শেখন, সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কাশেম ঝণ্টু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ছালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান, মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহেদ হোসেন, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রবিউল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি হাবিবুর রহমান হবি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খাজা মহিউদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম, সহসভাপতি আশিক আহমেদ, ক্রীড়া সম্পাদক বিক্রম সাদিক মিলন, সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য ও কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন, সদস্য সোহাগ আহমেদ, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কৌশিক আহমেদ রানাসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।