স্টাফ রিপোর্টার
‘কুষ্ঠরোগ নিরাময়যোগ্য, সামাজিক কুসংস্কার প্রকৃত বাধা’ এ প্রতিপাদকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি সচেতনতামূলক র্যালি সিভিল সার্জনের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং দি লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আর্থিক সহযোগিতায় সিভিল সার্জনের কার্যালয় চত্বরে দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
পরে সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ।
এ সময় বক্তারা বলেন, কুষ্ঠরোগ একটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য রোগ হলেও সামাজিক ভ্রান্ত ধারণা ও বৈষম্যের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এখনও অবহেলার শিকার হন।
বক্তারা আরও বলেন, কুষ্ঠরোগ নিয়ে ভয় বা লজ্জার কিছু নেই। সময়মতো চিকিৎসা নিলে এ রোগ সম্পূর্ণ ভালো হয়। তাই কুসংস্কার দূর করে সমাজে সচেতনতা বাড়াতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা বলেন, কুষ্ঠ রোগ এক সময় সমাজে একটি অভিশাপ হিসেবে বিবেচিত হতো। সে সময় চিকিৎসা ব্যবস্থা তেমন উন্নত ছিল না। ফলে যারা কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হতেন, তাদেরকে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হতো। অজ্ঞতা ও ভ্রান্ত ধারণার কারণে তারা মানবিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হতেন। আজ বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস। আজ আমাদের এখানে একত্র হওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো কুষ্ঠ রোগ সম্পর্কে সঠিক ও বাস্তব তথ্য সবার মাঝে তুলে ধরা। এই রোগটি কীভাবে হয়, কোন জীবাণুর কারণে হয়, এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীরে কী ধরনের শারীরিক জটিলতা বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কীভাবে এই রোগটি সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করা যায় এসব বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা। আমরা সবাইকে স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, কুষ্ঠ রোগ কোনো অভিশাপ নয়—এটি সম্পূর্ণরূপে নিরাময়যোগ্য একটি রোগ। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করলে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পারেন।
তিনি আরোও বলেন, আমাদের আশপাশে কেউ যদি এই রোগে আক্রান্ত হন, তাহলে যেন তারা লুকিয়ে না থাকেন, ভয় না পান। বরং সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আসেন এই বিষয়টি নিশ্চিত করাই আমাদের সবার দায়িত্ব। আমাদের দেশের প্রতিটি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই তথ্য অনেকেই জানেন না। তাই আমাদের উচিত সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে জানানো যে, কোনো খরচ ছাড়াই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই রোগের চিকিৎসা করানো সম্ভব। আজ বিশ্ব কুষ্ঠ দিবসে আমরা সবাই এই অঙ্গীকার করি, কুষ্ঠ রোগ সম্পর্কে কুসংস্কার দূর করবো। সচেতনতা বাড়াবো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের পাশে মানবিকভাবে দাঁড়াবো। তাহলেই একটি সুস্থ, সহানুভূতিশীল ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমান, ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশনের প্রশাসক ডা. শফিউল কবির প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, দি ল্যাপ্রসি মিশনের খুলনা রিজনের প্রজেক্ট অফিসার অনন্ত বৈরাগী, চুয়াডাঙ্গা ইম্প্যাক্ট হসপিটালের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম, ব্র্যাক কর্মকর্তা আব্দুর রউফ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সদর হাসপাতালের নার্স, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যম কর্মীরা।



