স্টাফ রিপোর্টার
দেশ ও জনগণের অতন্দ্র প্রহরী বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কমান্ডের আয়োজনে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা মিলনমেলা ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা শহীদ হাসান চত্বরের মুক্তমঞ্চ-এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধারা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবেছ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাইদুর রহমান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. খাজা আবুল হাসনাত, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ চাঁদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মদ আলী।
প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবেছ উদ্দিন বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। বর্তমানে আমরা মাসিক মাত্র ২০ হাজার টাকা ভাতা পাই। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, যখনই মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা সামান্য বৃদ্ধি পায়, তখনই হাটে-বাজারে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীদের মধ্যে অজানা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তারা মনে করে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বেড়েছে, এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়াতে হবে।
আমরা বারবার দেখেছি, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। এটা শুধু অর্থনৈতিক অনিয়ম নয়, এটি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি চরম অসম্মান। যারা রক্ত দিয়ে এই দেশ স্বাধীন করেছে, তাদের সম্মানের প্রতি যেন কারও বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই আমরা যদি যুদ্ধ না করতাম, আমরা যদি আমাদের জীবন বাজি রেখে এই দেশ স্বাধীন না করতাম, তাহলে আজ আপনারা এই স্বাধীন সোনার বাংলা দেখতেন না। পাকিস্তান আমলে বলা হতো দেশটি ছিল মাত্র ২২টি পরিবারের হাতে বন্দি। কিন্তু স্বাধীনতার পর আপনারা দেখুন আজ কত পরিবার অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছে। যাদের একসময় কুঁড়েঘর ছিল, আজ তাদের রয়েছে বহুতল দালান। অথচ যারা বুকের রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে, তাদের ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখুন কজন মুক্তিযোদ্ধার আজ দামি বাড়ি আছে?
এটাই কি স্বাধীনতার ন্যায্য প্রতিদান? আপনারা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে জানেন না। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে শিখুন। কারণ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করতে শিখলেই বাঙালি জাতিকে সম্মান করা শেখা যায়। আমাদের অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা ভাই চিকিৎসার অভাবে ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। সরকার ঘোষণা দিয়েছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য বছরে ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা সেই বরাদ্দের কোনো সুফল পাচ্ছি না। এই কারণে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি যে ৭৫ হাজার টাকা বাৎসরিক চিকিৎসা ভাতা বরাদ্দ ছিল, সেটি আমাদের মাসিক ভাতার সঙ্গে যুক্ত করা হোক। কারণ বর্তমান বাজারদরে মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতায় আমাদের জীবন চালানো অসম্ভব। এই সামান্য টাকায় আমাদের অসহায়ের মতো জীবনযাপন করতে হয়। আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে, অসংখ্য রক্তের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন করেছি। তাই আমাদের দাবি অত্যন্ত ন্যায্য মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, সরকারি যানবাহনে বিনা টিকিটে যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হবে, অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রয়োজনে স্বল্প খরচে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ করে দিতে হবে, মুক্তিযোদ্ধাদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা ভিক্ষা চাই না, আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই। আমরা সম্মান চাই কারণ এই স্বাধীনতা আমাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত।
চুয়াডাঙ্গা হাসান চত্বরে একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা মিলনমেলা উপলক্ষে আলোচন সভা



