চুয়াডাঙ্গার তরুণ বিজ্ঞানী জিহাদের উদ্ভাবনী চমক লক্ষ্য এবার থাইল্যান্ডের বিশ্বমঞ্চ

স্টাফ রিপোর্টার
উন্নত প্রযুক্তির রোবট উদ্ভাবন করে সাড়া ফেলেছেন চুয়াডাঙ্গার তরুণ বিজ্ঞানী জাহিদ হাসান জিহাদ। মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয়ের পর এবার তার লক্ষ্য থাইল্যান্ড। আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংককের আল মেরোজ হোটেলে অনুষ্ঠিতব্য ‘ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ স্টেম ইনভেনশন অ্যান্ড ইনোভেশন ২০২৬’ (ডণঝওও) প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে জিহাদের নেতৃত্বাধীন ‘চুয়াডাঙ্গা সায়েন্স অ্যান্ড রোবটিক্স ক্লাব’। এই আন্তর্জাতিক মিশনের যাত্রাকে সুগম করতে পাশে দাঁড়িয়েছেন চুয়াডাঙ্গার কৃতি সন্তান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিআইপি মোহা: সাহিদুজ্জামান টরিক।
সাহিদ গ্রুপের অর্থায়ন ও অনুপ্রেরণা, জিহাদের এই বিশ্বজয়ের স্বপ্ন পূরণে গতকাল শুক্রবার চুয়াডাঙ্গার হোটেল সাহিদ প্যালেসের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়। সাহিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের সভাপতি সিআইপি সাহিদুজ্জামান টরিক এই অনুদান তুলে দেন।
এসময় তিনি বলেন, “জিহাদের এই উদ্ভাবন চুয়াডাঙ্গাবাসীর জন্য গর্বের। আমি বিত্তবান ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারা এই প্রতিভার পাশে দাঁড়ান। আজ জিহাদ বিশ্বমঞ্চে সফল হলে চুয়াডাঙ্গাই বিশ্ব দরবারে সম্মানিত হবে।” এ সময় দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন এবং জিহাদের মা নাসিমা খাতুন ও স্বজন আব্দুলাহ আল মামুন রিংকু, শিবলী সাদিক শিমুল, সোহানুর রহমান সোহান, ওয়াসিম, সালাউদ্দিন রানা, আব্দুল আজিজ, সুমাইয়া আক্তর ইশিতা, আলী হাইদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিস্ময়কর উদ্ভাবন ‘হেক্সাগার্ড রোভার’ দর্শনা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র জাহিদ হাসান জিহাদের আবিষ্কৃত ‘হেক্সাগার্ড রোভার’ মূলত একটি বহুমুখী রোবট। ১৫ কেজি ওজনের এই রোবটটি সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং কৃষি খাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এতে রয়েছে ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম, মেটাল ও গ্যাস ডিটেক্টর এবং ড্রোন প্রযুক্তি। এটি যেমন জ্বলন্ত ভবন থেকে মানুষকে উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারে, তেমনি মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরক খুঁজে বের করে তা নিষ্ক্রিয় করতেও সক্ষম। এছাড়া ড্রোন ব্যবহার করে জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ এবং বন্যপ্রাণী উদ্ধারেও এটি পারদর্শী।
জিহাদ ইতিপূর্বে তার প্রজেক্ট ‘হেক্সাগার্ড রোভার’ এর মাধ্যমে ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ (ঝঞঊগ) ইনভেনশন অ্যান্ড ইনোভেশনে ২০২৬ (রোবোটিক্স ও ড্রোন) স্বর্ণপদক জয়, সেরা উদ্ভাবনী ধারণা পুরস্কার অর্জন, ইনোভেশন ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ জাতীয় পর্বে রৌপ্যপদক জয় ও ৪৬তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থানসহ বিভিন্ন পুরষ্কার অর্জন করেছে। গতবছরের ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার সেগাই (ঝঊএও) বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্দোনেশিয়ান ইয়াং সায়েন্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ওণঅঝ) আয়োজিত ‘বিশ্ব উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী- (ডওঈঊ) ২০২৫ এর আন্তর্জাতিক পর্বের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিশ্বের ১৭ দেশের দুই শতাধিক প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। বাংলাদেশের হয়ে অংশগ্রহণ করেন জিহাদের ‘চুয়াডাঙ্গা সাইন্স অ্যান্ড রোবটিক্স ক্লাব’। পাঁচটি বিভাগের মধ্যে ‘আইটি অ্যান্ড রোবটিক্স’ বিভাগে অংশ নিয়ে জিহাদের ১৫ কেজি ওজনের ‘হেক্সাগার্ড রোভার’ সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণপদক বিজয়ী হয়। মালয়েশিয়াতে স্বর্ণপদক জয়ের পর জিহাদের এবারের লক্ষ্য থাইল্যান্ডে চলতি মাসের ২৯তারিখে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ডড়ৎষফ ণড়ঁঃয ঝঞঊঅগ ওহাবহঃরড়হ ওহহড়াধঃরড়হ (ডণঝওও) ২০২৬। তারই ধারাবাহিকতায় মালেশিয়ান ইয়াং সায়েন্টিস্ট অর্গানাইজেশনের (গণঝঙ) আমন্ত্রণে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য ‘ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ স্টেম ইনভেনশন অ্যান্ড ইনোভেশন ২০২৬’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে চুয়াডাঙ্গা সায়েন্স অ্যান্ড রোবটিক্স ক্লাব।
মূলত বাংলাদেশ তরুণ বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক সমিতি (বাইসিস) আয়োজিত বিশ্ব যুব বিজ্ঞান আবিষ্কার উদ্ভাবন ‘জাতীয় পর্ব’ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক দলের অংশগ্রহনে সারাদেশ থেকে মাত্র ১০টি দল আন্তর্জাতিক পর্বের (থাইল্যান্ড-২০২৬) জন্য নির্বাচিত হয়েছে, তারমধ্যে জিহাদের চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞান ও রোবট ক্লাব একটি ।
জিহাদ জানান, তার এই দীর্ঘ যাত্রায় সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তার মা নাসিমা খাতুন। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই প্রজেক্টকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
থাইল্যান্ডের এই আসরে জিহাদের সঙ্গী হিসেবে থাকছেন ওয়াহিদ আব্দুল্লাহ, মো. সাইফ আল ফাহাদ এবং মো. শাহরিয়া ফাহিম। আগামী ২৭ জানুয়ারি এই চার সদস্যের প্রতিনিধি দলটি থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে। আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আল মেরোজ হোটেলে এই আন্তর্জাতিক আসর অনুষ্ঠিত হবে।
চুয়াডাঙ্গার এই তরুণ বিজ্ঞানীর হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে আবারও বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা গৌরবের সাথে উড়বে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।