আলমডাঙ্গা অফিস
দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনায় ধ্বংসের পথে আলমডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী কুমার নদ। শহরের বুক চিরে প্রবাহিত এক সময়ের প্রাণবন্ত ও খরস্রোতা এই নদীটি বর্তমানে চরম অবহেলা ও দখল-দূষণের শিকার। কালের বিবর্তনে নদীটি জিকে সেচ খালে রূপান্তরিত হলেও এখন তা কার্যত একটি উন্মুক্ত ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
নদীর দুই তীরজুড়ে নির্বিচারে ফেলা হচ্ছে পলিথিন, প্লাস্টিক, গৃহস্থালি বর্জ্য ও নানা ধরনের নোংরা আবর্জনা। বছরের পর বছর ধরে এভাবে ময়লা ফেলা হলেও পৌরসভার পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নেই নিয়মিত পরিষ্কার অভিযান কিংবা পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। প্রশাসনিক উদাসীনতা ও জনসচেতনতার অভাবে নদীটি আজ কার্যত মৃত্যুপথযাত্রী। ফলে নদীর বুকে জমে থাকা পচা আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় চিকিৎসক ডা. আব্দুস সালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে নদী দূষণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যকে সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে। কুমার নদ শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এর প্রভাব পুরো নগরবাসীর ওপর পড়বে।
আনন্দধাম এলাকার একটি মসজিদের ইমাম এমদাদুল হক বলেন, এক সময় এটি কুমার নদ ছিল, এখন জিকে সেচ খাল হিসেবে পরিচিত। এভাবে দূষণ চলতে থাকলে খুব শিগগিরই এটি পুরোপুরি ময়লার স্তুপে পরিণত হবে। এতে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। নদীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির পরিকল্পনার আগে নদীতে ময়লা ফেলা বন্ধ করা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দা সকিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন আগে ওয়াপদা ও প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে আমাদের ঘর ভেঙে দেয়। তখন বলা হয়েছিল নদীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ফুলগাছ লাগানো হবে। কিন্তু কয়েকদিন না যেতেই প্রভাবশালীরা আবার দখল করে দোকানপাট নির্মাণ শুরু করেছে।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার বলেন, ময়লা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জায়গা খোঁজা হচ্ছে। এটি নির্মাণ হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। শুধু নদীতেই নয়, অন্যান্য স্থানেও ময়লার সমস্যা রয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—আর কতদিন প্রশাসনিক উদাসীনতায় একটি জীবন্ত নদীকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হবে? দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে কুমার নদ হয়তো কেবল স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ হয়ে থাকবে।



