দামুড়হুদা প্রতিনিধি
যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ‘কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন মেলা-২০২৬’ উপলক্ষে দামুড়হুদায় তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলা শুরু হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মেলার আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার বেলা ১২টায় উপজেলা চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। র্যালি শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর বিশ্বাস।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উত্তম কৃষি চর্চা গ্রহণের ফলে আগে যেখানে বিঘাপ্রতি ৮-১০ মন ধান উৎপাদন হতো, সেখানে বর্তমানে ২০-২৫ মন পর্যন্ত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় কমছে এবং ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এসব প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ের কৃষকদের কাছে আরও সহজ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে হবে, কারণ তারাই কৃষির মূল চালিকাশক্তি। তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এ অঞ্চলের কৃষি খাত আগের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত ও লাভজনক হয়ে উঠেছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান সরকার-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রবিউল ইসলাম এবং দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উবায়দুর রহমান সাহেল।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুজ্জোহা পলাশসহ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
তিন দিনব্যাপী এ কৃষি মেলায় মোট ১৬টি প্রদর্শনী স্টল স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫টি উদ্যোক্তা স্টল। মেলায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, কৃষিযন্ত্র, উন্নত বীজ, সার ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই কৃষি চর্চা বিষয়ে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ও বাস্তবধর্মী ধারণা দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র ও সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানানো হয়।
মেলায় আগত কৃষকদের মতামত গ্রহণের জন্য একটি মতামত বই রাখা হয়েছে। আয়োজকরা সকল দর্শনার্থী ও কৃষকদের সেখানে মতামত লিপিবদ্ধ করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে কৃষি কার্যক্রম আরও কার্যকর ও উন্নত করা যায়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ কুমার বিশ্বাস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কৃষি সচেতনতা বিষয়ক একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিপুল সংখ্যক কৃষক ও কৃষাণীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।



