রোগীর স্বজন দ্বারা চিকিৎসককে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় বিএমএ’র মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার
রোগীর আত্মীয়-স্বজনের দ্বারা চিকিৎসককে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন চিকিৎসকেরা। গতকাল শনিবার দুপুর ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল চত্বরে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, মারিয়া নামের এক শিশুর চিকিৎসা সংক্রান্ত ঘটনায় সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আব্দুর রহমানকে রোগীর দূর সম্পর্কের আত্মীয়-স্বজনরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. আব্দুর রহমান বলেন, শিশু মারিয়ার চিকিৎসা এককভাবে আমি করিনি। আমরা তিনজন চিকিৎসক যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে চিকিৎসা দিয়েছি। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শুধু আমার নামেই অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
তিনি জানান, গত ৫ তারিখ মারিয়াকে প্রথম ভর্তি করা হলে তার পায়ের হাড়ের অবস্থান স্বাভাবিক ছিল এবং রক্ত চলাচলও স্বাভাবিক ছিল। তবে শিরাগুলো দুর্বল ছিল। ৭ তারিখ রোগীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঢাকায়ও চিকিৎসকেরা একই ধরনের চিকিৎসা প্রদান করেন। পরবর্তীতে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সেখানে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ডা. আব্দুর রহমান আরও বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে—রক্তনালী ছিঁড়ে যাওয়া—তা সঠিক নয়। আসলে রক্তনালীতে রক্ত জমাট বেঁধেছিল, যা সময়ের সঙ্গে ঘটে। এটি হঠাৎ করে হয় না।
সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, আমরা প্রতিটি রোগীর চিকিৎসা সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও বিশ্লেষণ করে দিয়ে থাকি। কিন্তু এভাবে চিকিৎসকদের হুমকি দিলে মনোবল ভেঙে যায় এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়।
তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি চলতে থাকলে দুর্ঘটনাজনিত গুরুতর রোগীদের তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় রেফার করতে বাধ্য হবো, যা সাধারণ মানুষের জন্য আরও দুর্ভোগ ডেকে আনবে। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে চুয়াডাঙ্গা জেলার চিকিৎসাসেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রকাশ্যে হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. আকলিমা খাতুন, ডা. আসাদুজ্জামান মালিক খোকন, ডা. এহসানুল হক তন্ময়, ডা. লায়লা শারমিন, ডা. মিলনুজ্জামান জোয়াদ্দার, ডা. রোকনুজ্জামান রুবেল, ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন, ডা. শাপলা খাতুন, ডা. আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ সদর হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকরা।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।