তিতুদহ প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গড়াইটুপি ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামের জুয়েল (৩৫) ভাগ্য বদলানোর জন্য কুয়েতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তবে বিদেশে গিয়ে অবৈধভাবে কাজ করার কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হন তিনি। শেষ পর্যন্ত কুয়েতে তার রহস্যজনক মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার প্রবাসে পাঠানো দালালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।
পরিবার সূত্র জানায়, আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপ সামাল দিতে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে রেখে জুয়েল বিদেশ যাত্রার সিদ্ধান্ত নেন। পাশের গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সাদ্দামের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে কুয়েতে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। বৈধ কাগজপত্রের আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত অবৈধভাবে প্রেরণ করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারে।
বিদেশে পৌঁছার পর বৈধ কাগজপত্র না থাকায় জুয়েল নানা হয়রানি ও নির্যাতনের মুখোমুখি হন। পরে অন্য এক প্রবাসীর সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে কাজ করে প্রায় দেড় বছর মানবেতর জীবন কাটান।
পরিবার জানায়, গত ৬ জানুয়ারি থেকে জুয়েলের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। একাধিকবার ফোন করেও সাড়া না পেয়ে কুয়েতপ্রবাসী পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার মৃত্যুর খবর জানা যায়। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও অজানা।
নিহতের বাবা বলেন, আমার ছেলে ভাগ্য বদলাতে গিয়েছিল। দালালের প্রতারণার কারণে আজ সে লাশ হয়ে ফিরেছে। বৈধ ভিসা না দিয়ে অবৈধভাবে পাঠানো হয়েছে। এখনও তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানি না।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দালালচক্রের ফাঁদে পড়া দেশীয় তরুণরা বিদেশে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেন, তবে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিহতের মরদেহ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। দুপুর ১টায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
ভাগ্য ফেরাতে কুয়েতে গিয়ে রহস্যজনক মৃত্যু চুয়াডাঙ্গার যুবকের



