চুয়াডাঙ্গায় বইছে শৈত্য প্রবাহ, সূর্যের দেখা নেই হিমশীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় ঘরবন্দি মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ। গত দুই দিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মিললেও গতকাল রবিবার মেঘাছন্ন আকাশের ন্যায় কুুয়াশার চাদরে ঢেকে রয়েছে পুরো জনপদ। এর সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে সারাদিন সূর্যের দেখা না মেলায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার লাখো মানুষ।  বিশেষ করে খেটে খাওয়া ও ছিন্নমূল মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শীতের তীব্রতায় সড়ক ও খোলা জায়গায় মানুষের চলাচল কমে গেছে। অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শরীর গরম রাখার চেষ্টা করছেন। ঘন কুয়াশায় মানুষের সড়কে চলাচল হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। সারাদিনেও সূর্যের কোনো দেখা মেলেনি। যার কারনে তীব্র শীতে দুর্ভোগে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার খেটে খাওয়া মানুষজন।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দিনমজুর কবির হোসেন বলেন, সকাল থেকে শীত খুব বেশি পরিমাণে পড়ছে। হিমশীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশা শীতকে আরো ভয়ঙ্কর রূপ দিয়েছে। এই শীতের কারণে আমরা বেশ কষ্টে আছি। নিয়মিত কর্মক্ষেত্রে যেতে আমাদের অসুবিধা হচ্ছে। সকালবেলা উঠে কাজে আসা আর হচ্ছে না। তবুও তীব্র শীত উপেক্ষা করে একটু বেলা করেই কাজে আসতে হচ্ছে আমাদের।
রিকশাচালক সিদ্দিক আলী বলেন, শীতের কারণে রিকশাতে যাত্রী সংখ্যাও কম। আগে সকালে এবং রাতে যাত্রী টেনে ভালই উপার্জন হত। কিন্তু বর্তমানে শীতের তীব্রতা বাড়ায় সকালে এবং রাতে যাত্রী নেই বললেই চলে। তাছাড়া তীব্র শীতে সকালে এবং রাতে রিকশা নিয়ে বের হওয়াটাও বেশ কষ্টসাধ্য। শীতের কারণে আমাদের উপার্জন করাটাও বেশ কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এই তীব্র শীতে সবথেকে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের মত দরিদ্রদের।
সদর উপজেলার বাসিন্দা জামিরুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে চুয়াডাঙ্গা জেলায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। তীব্র ঠান্ডা ও বাতাসের কারনে কারণে শরীরে কাঁপুনি ধরে যাচ্ছে। সকালেই খড়কুটোয় আগুন জেলে শরীরকে উষ্ণ করার চেষ্টা করেছি। তার পরপরই আবার বাতাস এবং কুয়াশায় ঠান্ডায় জমে যাওয়ার অবস্থা হচ্ছিল। প্রতিবছরের মতো এবারও চুয়াডাঙ্গাতে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।  
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, গতকাল রবিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। আবহাওয়া অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, আগামী কয়েক দিন একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।