চুয়াডাঙ্গায় ইম্প্যাক্ট হাসপাতালে ব্রেস্ট ক্যান্সার স্ক্রিনিং ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা জেলার নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ব্রেস্ট ক্যান্সার স্ক্রিনিং ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় ইম্প্যাক্ট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সিভিল সার্জন ডা. হাদী মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। স্ক্রিনিং কার্যক্রমে ৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ রেডিওলজিস্ট টিম ও ব্রেস্ট সার্জন টিম কাজ করেন। শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ২০ জনের অধিক নারীর ব্রেস্টে বিভিন্ন ধরনের টিউমার বা লাম্প পাওয়া যায়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট নারীদের প্রয়োজনীয় করণীয় ও চিকিৎসা সংক্রান্ত দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
অনুষ্ঠানে কি-নোট স্পিকার ও প্রধান অতিথি ছিলেন- প্রখ্যাত অনকোপ্লাস্টিক সার্জন অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন,“সারা বাংলাদেশেই আমি এ ধরনের প্রোগ্রামে কাজ করি, তবে চুয়াডাঙ্গাতে মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়ে আমি অভিভূত। আশা করি আমার অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ এখানকার মানুষের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. সালমা শাহনেওয়াজ পারভিন, বিএমএ সভাপতি আবু হাসানুজ্জামান নূপুর  ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন, ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. একরামুল হক জোয়ার্দার এবং ইম্প্যাক্ট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রশাসক ডা. শাফিউল কবির জিপু।
মূল আয়োজক ডা. সালমা শাহনেওয়াজ পারভিন বলেন, ’চুয়াডাঙ্গার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যারা নিরলসভাবে কাজ করছেন, সেই স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়েই আমরা স্ক্রিনিং কার্যক্রম শুরু করেছি। আশা করছি এই সচেতনতামূলক সেশন ও স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা কমিউনিটিতে সাধারণ মানুষকে ব্রেস্ট ক্যান্সার বিষয়ে সচেতন করতে সক্ষম হবেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী স্বাস্থ্যকর্মী ইরানি সুলতানা বলেন, ’আমরা স্বাস্থ্যকর্মীরা অন্যদের চিকিৎসাসেবা দিলেও অনেক সময় নিজেরাই স্ক্রিনিংয়ের সুযোগ পাই না। ফলে ব্রেস্ট ক্যান্সার অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে শনাক্ত হয় এবং মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। চুয়াডাঙ্গায় এই আয়োজন অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও কার্যকর। আয়োজকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।’ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত সংযোগ ভলান্টিয়ার্স বাংলাদেশ এর সভাপতি ডা. শাহরিয়ার সিয়াম বলেন,’ব্রেস্ট ক্যান্সার একটি নীরব ঘাতক, যা প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা না পড়লে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই স্বাস্থ্যকর্মীদের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় এনে দিকনির্দেশনামূলক এই উদ্যোগ চুয়াডাঙ্গার মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হবে।’
এই কর্মসূচিতে চিকিৎসক, নার্স, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের নারী স্বাস্থ্যকর্মীসহ দুই শতাধিক নারী স্বাস্থ্যকর্মীর বিনামূল্যে ব্রেস্ট ক্যান্সার শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়। পরে স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ অবদান রাখায় অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান ও ডা. মাসুদা বেগম রানুকে রওশন শামস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।