স্টাফ রিপোর্টার
দামুড়হুদায় বিএনপির নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৪ টায় উপজেলার চিৎলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এ নির্বাচনি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। চিৎলা ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল খালেক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা -২ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির , সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম তনু, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মন্টু মিয়া, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন প্রমুখ।
প্রধান অতিথি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, আমাদের নেতা আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ছিলেন। বাকশালের পরে যখন একদলীয় শাসনের পাথর আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছিল তখন উনি মুক্তির যে ডাক দিয়েছিলেন প্রথম কাজটি করেছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন তখন নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন। তার অন্যতম প্রধান কাজ ছিল এই যে তিনি নারী শিক্ষা ফ্রি করে দিয়েছিলেন। আমাদের দেশ নায়ক তারেক রহমান আগামী দিনের রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য ৩১ দফা দিয়েছেন। একটি দেশের রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজন কখন হয়, যখন সেটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনীতি করার অধিকার সবকিছু সমূলে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল। সেই ধ্বংসের কিনার থেকে আমরা মুক্তি পেতে যাচ্ছি। আমাদের ছাত্র জনতার আন্দোলনের যে ভিত্তি তা গড়ে দিয়েছিলাম আমরা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে। অনেকে ভিন্ন ভাবে বয়ান করার চেষ্টা করেন যে শুধুমাত্র দুই মাসের আন্দোলনে সরকারের পতন ও পলায়ন হয়েছে। দীর্ঘ ১৬ বছর আমরা মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছি এবং চূড়ান্তভাবে ২৪ সালের জুলাইয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের শুধু পতনই হয়নি সরকার পালিয়েও গেছে। এই পলায়ন যেন স্থায়ী হয় এবং বাংলাদেশের স্বৈরাচার আবার যেন না আসে তার জন্য আমরা প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অন্তর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।
তিনি আরো বলেন, আগামী পাঁচ বছরে আমরা ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করব। দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন করা হবে, যাতে চিকিৎসার জন্য আর ঢাকায় কিংবা রাজশাহীতে ছুটে যেতে না হয়। প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে এবং চুয়াডাঙ্গায় প্রতিষ্ঠা করা হবে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। আপনাদের ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। আগামী ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহবান জানান তিনি। পরে তিনি উপজেলার হাথিভাঙ্গা, মুক্তারপুরসহ একাধিকস্থানে পথসভায় বক্তব্য রাখেন।



