দুই বছরেও শেষ হয়নি সংস্কার কাজ সরোজগঞ্জ-খাসকররা সড়কে চরম দুর্ভোগ

সরোজগঞ্জ প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সরোজগঞ্জ থেকে খাসকররা পর্যন্ত প্রধান সড়কের বেহাল অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। প্রায় দুই বছর আগে সংস্কারের জন্য সড়কটি খুঁড়ে ফেলা হলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। ফলে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টির পানি জমে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সরোজগঞ্জ-খাসকররা সড়কের একাধিক অংশ খানা-খন্দে ভরা এবং পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এতে কৃষকরা মাঠের আবাদি জমি থেকে ভুট্টা, ধানসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে আনতে পারছেন না। সরোজগঞ্জ বাজারে পণ্য নিতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় দুই বছর আগে সংস্কার কাজ শুরু করে সড়ক কেটে ফেলে রেখে দেয়। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের এমন করুণ অবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ঠিকাদারের কার্যকর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
খাসকররা গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, বর্তমানে সড়ক দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা সম্ভব নয়। বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা কাদায় ও পানিতে ডুবে যায়। বাধ্য হয়ে সরোজগঞ্জ বাজারে যেতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, ধান কাটার মৌসুমে এমন পরিস্থিতিতে তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। মাঠ থেকে ধান বাড়ি বা বাজারে আনতে না পেরে অনেকেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসী আরও জানান, জলাবদ্ধতার কারণে আলমসাধু, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। খাসকররা, রাবিরনগর ও আশপাশের গ্রামের মানুষ কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সড়কটি খুঁড়ে ফেলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রেখেছেন। তারা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত সড়ক সংস্কার সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসী প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “আমাদের এই দুর্ভোগের দিকে কেউ নজর দিচ্ছে না। দ্রুত সরোজগঞ্জ-খাসকররা সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক।”

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।