স্টাফ রিপোর্টার
তুলা ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে তুলা চাষের উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৪ টায় তুলা উন্নয়ন বোর্ড, চুয়াডাঙ্গা জোনের আয়োজনে আলুকদিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা এস. এম. ইজাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জেলার কৃষকদের তুলা চাষে আগ্রহী করে তুলতে প্রতি বিঘা জমির জন্য ৬০০ গ্রাম হাইব্রিড তুলা বীজ, ২৫ কেজি ইউরিয়া সার, ৫০ কেজি টিএসপি সার, ৫০ কেজি এমওপি সার, ২ কেজি বোরন সার, ২০০ মিলি ডাইফেনথিউরণ, ১০০ মিলি স্পিনোসেড, ১৫০ মিলি ছত্রাকনাশক এবং ৩০০ মিলি পিজিআর (ম্যাপাকুয়েট ক্লোরাইড) প্রদান করা হবে। এসব উপকরণের মোট মূল্য প্রায় ৮ হাজার টাকা।
চুয়াডাঙ্গায় এ কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। জেলার ৪ উপজেলার ৩ হাজার ৩০০ জন কৃষক এ প্রণোদনার আওতায় থাকবেন। উদ্বোধনী দিনে ১০ জন কৃষকের হাতে উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। আগামীকাল থেকে পর্যায়ক্রমে জেলার সকল সুবিধাভোগী কৃষকের মাঝে এসব উপকরণ বিতরণ করা হবে বলে জানানো হয়।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী বলেন, তুলা এমন একটি ফসল, যার কোনো অংশই অপচয় হয় না, সবই কাজে লাগে। আমাদের দেশের বড় একটি শিল্প গার্মেন্টস শিল্প। কিন্তু আমরা সেলাইয়ের মজুরি ছাড়া তেমন কিছুই পাই না। তাই প্রয়োজন দেশেই তুলা উৎপাদন বৃদ্ধি করা। কৃষকরা তুলা চাষে এগিয়ে এলে এবং তা দিয়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করতে পারলে দেশ আরও লাভবান হবে।
এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, বাংলাদেশকে কৃষিতে আরও সমৃদ্ধ করতে বিএনপি সবসময় কৃষকদের পাশে ছিল এবং থাকবে। আমাদের জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বাংলাদেশ বিজিএমইএর সভাপতি। গার্মেন্টস শিল্প সম্পর্কে তাঁর ভালো ধারণা রয়েছে। এই শিল্পের মূল কাঁচামাল তুলা, যা আমাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আমরা যদি দেশের চাহিদার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ তুলা নিজেরাই উৎপাদন করতে পারি এবং কৃষকদের তুলা চাষে উৎসাহিত করতে পারি, তাহলে গার্মেন্টস শিল্পে লাভের পরিমাণ দ্বিগুণ হবে। বর্তমানে যে খরচে বিদেশি তুলা আমদানি করে পোশাক রপ্তানি করছি, দেশীয় তুলা ব্যবহার করে পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানি করতে পারলে দেশের আয়ও দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, যশোর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোজাদ্দীদ আলী শামীম, কীটপতঙ্গ বিশেষজ্ঞ ড. তাসফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জিনিং মালিক সমিতির সেক্রেটারি গোলাম সাবের লাল এবং তুলা চাষি সাইফুল ইসলাম, সজল ও মুকুল। অনুষ্ঠানে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তুলা ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গার আলুকদিয়ায় কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা উপকরণ বিতরণ



