অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্য থেকে পালাতে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ব্যবহারে অতিধনীরা ২ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত গুনছেন, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪ কোটি টাকারও বেশি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ডেইলি মেইল বলছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি, দুবাই এবং কাতার ও বাহরাইনসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অভিজাত শ্রেণির ধনী ব্যক্তিরা দ্রুত এই অঞ্চল ছাড়ছেন। আগের নিরাপদ ভাবমূর্তির দেশগুলোতে হঠাৎ হামলা শুরু হওয়ায় তারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে সৌদি আরবের দিকে ছুটছেন।
সৌদির রাজধানী রিয়াদ এখন মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার অন্যতম নির্ভরযোগ্য রুটে পরিণত হয়েছে, কারণ- এখানকার কিং খালিদ বিমানবন্দরই বর্তমানে সচল থাকা কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে অন্যতম।
তবে যাত্রার খরচ অত্যন্ত চড়া। বিভিন্ন বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা দুবাই থেকে রিয়াদ পর্যন্ত প্রায় ১০ ঘণ্টার সড়কপথে লোকজনকে নেওয়ার জন্য এসইউভির বহর ভাড়া করছে। এরপর রিয়াদ থেকে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে তাদের গন্তব্যে পাঠানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট সেমাফরের তথ্য অনুযায়ী, যাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাদের মধ্যে আছেন বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী ও উচ্চ-সম্পদশালী ব্যক্তিরা, যারা মূলত ছুটিতে বা ব্যবসায়িক কাজে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন।
এই জরুরি বহির্গমন চাহিদা এসইউভি ভাড়া ও ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের ভাড়া- উভয়ই বাড়িয়ে দিয়েছে। রিয়াদ থেকে ইউরোপগামী ব্যক্তিগত জেটের ভাড়া এখন ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার (২ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড) পর্যন্ত উঠেছে বলে জানা গেছে।
ইরান ওমানের একটি বন্দর ও দেশে থাকা একটি তেলবাহী ট্যাংকারে রোববার (১ মার্চ) হামলা চালানোর পর ওমান হয়ে যাওয়ার রুট বন্ধ হয়ে গেলে সৌদি আরবই মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার সবচেয়ে নিরাপদ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রিয়াদে অবস্থিত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে। পাঁচটি যাত্রী টার্মিনাল সম্বলিত এ বিমানবন্দরটি সাধারণত ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে।



