স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের গাড়িচালক, চালক সহকারী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে ‘মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব ও মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার প্রতিরোধ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তিন বছর মেয়াদি অগ্রাধিকার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে দিনব্যাপী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারের শুরুতে ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হয়। পরে মাদকের ভয়াবহতা এবং সচেতনতামূলক আরেকটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
মূল প্রবন্ধে জেলা প্রশাসক বলেন, একজন গাড়িচালক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পান না। ফলে অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। আবার অনেকে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালিয়ে বেশি ভাড়া আয় করার উদ্দেশ্যে ক্লান্তি দূর করতে মাদক সেবন করেন। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ক্লান্তি দূর করার জন্য মাদক নয়, প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রাম। অনেক চালক গাড়ির ভেতর ধূমপান করেন, এমনকি ধূমপান ছাড়া গাড়ি চালাতেও পারেন না। এই মাদক তিলে তিলে মানুষকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। একসময় এটি শুধু একজন ব্যক্তিকেই নয়, তার পুরো পরিবারকেও বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়।
নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যারা মাদক সেবন করে গাড়ি চালান, তারা শুধু নিজেদের জীবনই ঝুঁকির মধ্যে ফেলেন না, বরং গাড়িতে থাকা যাত্রীদের জীবনও চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেন। মাদক সেবনের পর একজন চালকের হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। তার চোখে ঝাপসা দেখা দেয়, রোড ডিভাইডার, রাস্তার সংকেত কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও মনোযোগ থাকে না। মাদক সেবনের ফলে প্রচুর হ্যালুসিনেশন হয়, যা অত্যন্ত ভয়াবহ। মাদকের শুরুটা হয় সিগারেট থেকে। ধূমপানের আসক্তিই অনেককে ধীরে ধীরে ভয়ংকর মাদকের দিকে ঠেলে দেয়। মাদক থেকে মুক্ত থাকতে হলে মানসিকভাবে দৃঢ় হতে হবে এবং ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে। একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা আমাদের সবার প্রত্যাশা।
সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তার বলেন, মাদকের ব্যবসা হলো বিনা পুঁজির ব্যবসা এবং এটি অত্যন্ত লাভজনক। তবে সমাজের জন্য এর ক্ষতিকর প্রভাব কতটা ভয়াবহ, তা কল্পনাও করা যায় না। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। মাদকাসক্ত ব্যক্তি আর পশুর মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না।
সেমিনারে আরোও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বি.এম তারিক উজ জামান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম, পাবলিক প্রসিকিউটর মারুফ সরোয়ার বাবু, ডা. সাজিদ হাসান, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, মটরগাড়ি শ্রমিক ইউনিয়নের সমিতির সভাপতি এম জেনারেল, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মইনুদ্দিন, গাড়িচালক মনি, আব্দুল করিম, ইশরাকসহ আরও অনেকে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর এস. এম. আশিস মোমতাজ, সহকারি কমিশনার ফাহাদ চৌধুরী, জমির উদ্দিন, শাকিল মোঃ ছাফিউল্লাহ, আব্দুল্লাহ আল শামীম, টিআই এডমিন আমিরুল ইসলাম, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মানিক আকবর, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনিসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গাড়িচালক, চালক সহকারী।
চুয়াডাঙ্গায় যানবাহন চালকদের নিয়ে মাদকবিরোধী সেমিনারে জেলা প্রশাসক



