আলমডাঙ্গায় করলা চাষে কৃষক চঞ্চলের সাফল্য

আলমডাঙ্গা অফিস
আলমডাঙ্গা উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের পুরাতন পাঁচলিয়া গ্রামের কৃষক চঞ্চল হোসেন প্রমাণ করেছেন, উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারলে অল্প জমিতেও অর্জন করা যায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য। এগ্রো ওয়ান গ্লোবাল লিমিটেডের ‘লিডার হাইব্রিড’ করলার বীজ ব্যবহার করে তিনি মাত্র ১২ শতক জমিতে করলা চাষ করে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।
পুরাতন পাঁচলিয়া কলমিগাড়ী মাঠে তার করলা ক্ষেত এখন যেন একটি প্রদর্শনী খামার। সবুজ লতায় ঝুলে থাকা অসংখ্য করলা দেখে আশপাশের কৃষকদের মাঝেও সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা এসে ক্ষেত পরিদর্শন করছেন এবং চাষাবাদের কৌশল সম্পর্কে জানছেন।
চঞ্চল হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে তিনি এগ্রো ওয়ান গ্লোবাল লিমিটেডের লিডার হাইব্রিড করলার বীজ ব্যবহার করে মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেন। শুরু থেকেই জমির পরিচর্যা, সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ, নিয়মিত সেচ এবং রোগবালাই দমনে বিশেষ গুরুত্ব দেন। ফলে গাছগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ফলন দিতে শুরু করে।
তিনি বলেন, মাত্র ১৩ হাজার টাকা খরচে করলার আবাদ করেছি। চারা রোপণের ৫৮ দিনের মধ্যে ১১ বার করলা সংগ্রহ করেছি। ইতোমধ্যে ৬৮২ কেজি করলা বিক্রি করে প্রায় ২৮ হাজার টাকা আয় হয়েছে। ক্ষেতে এখনও প্রচুর করলা রয়েছে। আশা করছি ১০০ দিনের মধ্যে মোট ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকার করলা বিক্রি করতে পারবো।
এগ্রো ওয়ান গ্লোবাল লিমিটেডের চুয়াডাঙ্গা ফিল্ড অফিসার আবু সাঈদ বলেন, চঞ্চল হোসেন আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেছেন। বিশেষ করে মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে জমির আর্দ্রতা বজায় ছিল এবং গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। তার এই সফলতা অন্য কৃষকদের জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ।
এগ্রো ওয়ান গ্লোবাল লিমিটেডের দক্ষিণ অঞ্চলের সেলস ম্যানেজার কৃষিবিদ রেজাউল করিম বলেন, লিডার হাইব্রিড করলা উচ্চ ফলনশীল একটি জাত। সঠিক পরিচর্যা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকরা এই জাত থেকে অধিক উৎপাদন পেতে পারেন। চঞ্চল হোসেনের সাফল্য প্রমাণ করে যে উন্নত বীজ ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা কৃষকের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, এ ধরনের সফলতা গ্রামীণ কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করবে। তারা মনে করছেন, উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে কৃষকরা কম জমি থেকে বেশি লাভবান হতে পারবেন।
সবুজে মোড়ানো করলা ক্ষেতের দিকে তাকালে সহজেই বোঝা যায়—সঠিক বীজ নির্বাচন, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রম মিলেই গড়ে উঠেছে এই সাফল্যের গল্প। আর সেই গল্পই আজ আলমডাঙ্গার মাঠ পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে কৃষকের মুখে মুখে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।