চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সামাজিক অপরাধ দমনে নানা সিদ্ধান্ত

স্টাফ রিপোর্টার
চুয়াডাঙ্গায় জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি.এম তারিক উজ জামানের সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ। সভায় উপস্থিত সদস্যগণ জেলার বর্তমান আইনশৃঙ্খলার চিত্র তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পরামর্শ প্রদান করেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নির্মূল এবং আসন্ন বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় জানানো হয়, সীমান্ত এলাকায় মাদকের অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। শহর এলাকায় যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনলাইন জুয়া, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ মানব পাচার এবং আত্মহত্যা প্রবণতা বিষয়ে অপতৎপরতা বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান বলেন, জেলায় বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বদা জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। জেলাতে বেশি বেশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে জেলাতে মাদকের প্রকোপ একটু বেশি দেখা যাচ্ছে। এই মাদক রুখে দিতে হলে আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। গতকালকেও চুয়াডাঙ্গার উজিরপুরে যুবসমাজের উদ্যোগে মাদকের বিরুদ্ধে একটি সভা করা হয়। তারা নিজেরাই মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তাদের গ্রামে কোন মাদকের প্রচলন নেই। তবে আমিও তাদেরকে বলেছি আপনারা কোন মাদক কারবারিকে ধরতে পারলে আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেবেন। আমি মনে করি উজিরপুর গ্রামের যুবকদের মতো যদি চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্যান্য গ্রামের যুবকরা এমন উদ্যোগ নেয় তাহলে মাদকের প্রকোপ অনেকটাই কমে যাবে।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। চুয়াডাঙ্গাকে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ জেলা হিসেবে ধরে রাখতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাসহ সকল জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।  অনলাইন জুয়া, বাল্যবিবাহ ও আত্মহত্যা প্রবণতা বিষয়ে জেলাব্যাপী উঠান বৈঠক করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, অল্প কিছু দিনের মধ্যেই জেলা প্রশাসন গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিজ নিজ টিন সাজিয়ে নেবেন। আমরা চাই উৎসবমুখর প্রানবন্ত একটি টুর্নামেন্ট চুয়াডাঙ্গা অনুষ্ঠিত হোক। এক্ষেত্রে খেলোয়ারদের বাহির থেকে হায়ার করেও আনা যাবে। সর্বোচ্চ দুইজন বা তিনজন খেলোয়াড় বাইরে থেকে আনতে পারবে একটি টিম। এমন ভাবে টুর্নামেন্টে আয়োজন করতে হবে যাতে স্টেডিয়ামে দর্শক কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি চর্চা মানুষকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পারে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক  শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন আলম, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাহাবুদ্দিন, জেলা মার্কেটিং অফিসার শহিদুল ইসলাম, পাবলিক প্রসিকিউটর মারুফ সরোয়ার বাবু, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমান,  চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু সহ সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিক প্রতিনিধিরা।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।