নাজমুল হক শাওন, আলমডাঙ্গা
আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছী ইউনিয়নের কুমোরপাড়ায় অবস্থিত পালবাড়ির ঐতিহ্যবাহী হরি মন্দিরটি দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে বড় ধরনের কোনো সংস্কার না হওয়ায় এখন ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। শতবর্ষী এই ধর্মীয় উপাসনালয়টি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিন দিন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে।প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এলাকার ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই মন্দিরে বহু পূজা-পার্বণ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভবনটির অবস্থা এখন অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুরনো কাঁদামাটির গাঁথুনিতে নির্মিত মন্দিরটির দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ইট খসে পড়ছে, পলেস্তারা উঠে ভেতরের কাঠামো উন্মুক্ত হয়ে গেছে। ছাদের টিন মরিচা ধরে ক্ষয়ে গেছে। বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ে, ফলে ভবনের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়ছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুকুমার কুমার পাল বলেন, এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত একটি ধর্মীয় স্থাপনা। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব দেখভাল করছি। কিন্তু এখন বড় ধরনের সংস্কার ছাড়া মন্দিরটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার পাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতি বছরই শুনি বরাদ্দ আসবে, সংস্কার হবে। কিন্তু পঞ্চাশ বছর পার হয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। যদি কোনো বরাদ্দ এসে থাকে, তাহলে সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে তার স্বচ্ছ হিসাব মানুষের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা কাছেদ আলী বলেন, বহুবার শুনেছি সরকারি বরাদ্দ এসেছে। কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। বছরের পর বছর মন্দিরের অবস্থা একই রকম পড়ে আছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করা উচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের বিভিন্ন বরাদ্দ সাধারণত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়। তবে পালবাড়ির হরি মন্দিরের ক্ষেত্রে বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হয়েছে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, হরি মন্দির শুধু একটি উপাসনালয় নয়; এটি এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। কিন্তু বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শতবর্ষী এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থাপনাটি সংরক্ষণে দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান, সংস্কারকাজ শুরু এবং বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিলে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এই নিদর্শনটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
৫০ বছরেও সংস্কার হয়নি বেলগাছী পালবাড়ির হরি মন্দির ধ্বংসের মুখে শতবর্ষী ধর্মীয় উপাসনালয়, সংস্কারের দাবি



