জ্যৈষ্ঠ এলেই দামুড়হুদা এলাকাজুড়ে আম-কাঁঠাল-লিচুর ঘ্রাণে উৎসবের আমেজ

আটকবর প্রতিনিধি:


১লা ˆজ্যষ্ঠ এলেই যেন বদলে যায় পুরো গ্রামের চিত্র| চারিদিকে পাকা ফলের মিষ্টি সুবাস, গাছে গাছে ঝুলে থাকা রসালো আম, কাঁঠাল, লিচু ও জামের সমারোহে মুখর হয়ে ওঠে গ্রামবাংলার প্রকৃতি| এ যেন শুধুই একটি মাস নয়, গ্রামীণ জনপদের প্রাণের উৎসব মধুমাস|
দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে রাস্তার পাশ, বাগান কিংবা ক্ষেতের ধারে সর্বত্রই এখন ফলের বাহার| গাছভর্তি আমের থোকা, কাঁঠালের ভারে নুয়ে পড়া ডাল, লাল টুকটুকে লিচু আর পাকা জামের রঙে মোহিত হচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধরা| সকাল-সন্ধ্যা বাতাসে ভেসে আসছে পাকা ফলের মন মাতানো ঘ্রাণ|
স্থানীয়রা জানান, ˆজ্যষ্ঠ মাস মানেই আনন্দের বার্তা| এই মাসে গ্রামের পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর| দূরে থাকা আত্মীয়-¯^জনদের জন্য গ্রামের মানুষ ভালোবাসার উপহার হিসেবে পাঠানো হয় আম, কাঁঠাল, লিচুসহ নানা ফল| এতে যেমন বাড়ে আত্মীয়তার বন্ধন, তেমনি মধুমাস হয়ে ওঠে আবেগ আর স্মৃতিময় অধ্যায়|
গতকাল শুক্রবার নাটুদহের খলিসাগাড়ী গ্রামের ফলপ্রেমী শহিদুল ও আনোয়ার হোসেন বলেন, জ্যৈষ্ঠ মাস এলেই গ্রামের আলাদা একটা সৌন্দর্য ˆতরি হয়| গাছের ফল আর তার ঘ্রাণে মন ভরে যায়| শহরের মানুষ হয়তো ফল খায়, কিন্তু গ্রামে বসে গাছ থেকে পেড়ে খাওয়ার আনন্দটা একেবারেই অন্যরকম| কৃষক ও বাগান মালিকদের মুখেও এখন হাসি| তারা বলছেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন বেশ ভালো হয়েছে| বিশেষ করে আম, লিচু ও কাঁঠালের উৎপাদন আশানুরূপ হওয়ায় বাজারেও ব্যাপক চাহিদা ˆতরি হয়েছে|
নাটদহ ইউনিয়ন কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, ˆজ্যষ্ঠ মাসজুড়ে প্রায় ১৮ থেকে ২০ প্রকারের দেশীয় ফল বাজারে ওঠে| আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নাটুদহসহ আশপাশ এলাকার ফল স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমনকি বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব| তবে ঝড়-বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম হলে কৃষকরা আরও লাভবান হবেন বলে আশা করছি|

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।