চুয়াডাঙ্গায় মাসিক এনজিও বিষয়ক সমন্বয় সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন


চুয়াডাঙ্গায় মাসিক এনজিও বিষয়ক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন।
ওয়েভ ফাউন্ডেশন ও গ্রাম আদালতের কার্যক্রম বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন উপদেষ্টা আব্দুস শুকুর ও জেলা ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান। সভায় জানানো হয়, দেশের ৮টি বিভাগ ও ৩৮ টি জেলায় ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২৪২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ৫২ কোটি টাকা আবাসনে  ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ফল চাষীদের উদ্বুদ্ধ করেছি। ৪৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছি। সুশাসনের জন্য কাজ করেছি। উথলী ও দেওলী ইউনিয়নে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়ে কাজ করেছি। কিশোরী কিশোরী  ক্লাব রয়েছে ৭৩৮ টি। ৪টি ট্রেডে ১ হাজার ৬০০ প্রশিক্ষন নিয়েছে। ৩৮ টি সৌরশক্তি আছে। চুয়াডাঙ্গার চার উপজেলায় ৪০ টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬  অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে কতিপয় ফৌজাদরী ও দেওয়ানী বিরোধের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। গ্রাম আদালত ৩ লাখ টাকা মূল্যমানের ফেীজদারী ও দেওয়ানী বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে। গ্রাম আদালতে আইনজীবী নিয়োগের বিধান নেই। গ্রাম আদালতে অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে এবং অতি সহজে বিরোধ ও বিবাদ নিষ্পত্তির সুযোগ আছে।
গ্রাম আদালত চুরি, দাঙ্গা, প্রতারণা, ঝগড়া বিবাদ, কলহ বা মারামারি, মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাৎ করা, অন্যায় নিয়ন্ত্রণ ও অন্যায় আটক, ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেয় এবং কোন নারীর শালীনতাকে অমর্যাদা বা আপমানের উদ্দেশ্যে কথা বলা, অঙ্গভঙ্গি করা বা অন্য কোনো কাজ করা। এসব করলে ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
অপরদিকে, পাওনা টাকা আদায় সংক্রান্ত, স্থাপবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত, অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধার বা তার মূল্য আদায় সংক্রান্ত, কোন অস্থাবর সম্পত্তি জবর দখল বা ক্ষতি করার জন্য ক্ষতিপূরণ  আদায় সংক্রান্ত, গবাদিপশু অনধিকার প্রবেশের কারণে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত, কৃষি শ্রমিকদের পরিশোধযোগ্য মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত এবং স্তী কর্তৃক বকেয়া ভরণপোষণ আদায় ইত্যাদি। এসব ঘটনা ঘটলে দেওয়ানী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
আবেদনকারীকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ফৌজদারী মামলা দাখিলের সময় ১০ টাকা এবং দেওয়ানী মামলায় ২০ টাকা ফিস জমা দিতে হবে এবং রশিদ সংগ্রহ করতে হবে। ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে বিরোধ সংঘটিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এবং দেওয়ানী মামলার ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করতে হবে। তবে, স্থাবর সম্পত্তি বেদখল হওয়ার দিন থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করা যাবে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ -৩য় পর্যায় প্রকল্প ২০২৭ সালের ১৫ জুন শেষ হওয়ার কথা আছে।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন,‘ গ্রাম আদালতে মামলা আসেনা। এই জায়গায় কাজ করা দরকার। লিগ্যাল প্রসেসের মধ্যে দিয়ে মামলা করতে হবে। গ্রাম আদালতের নিজস্ব এখতিয়ার আছে। সেইজন্য প্রথমে গ্রাম আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে এবং পরে থানায় যেতে হবে। যে সকল ইউনিয়ন পরিষদে মামলা আসেনা, কেন আসেনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। গ্রাম আদালত বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। মানুষের দৌড়গোঁড়ায় সেবা পৌঁছাতে সকলেই আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।’
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, সহকারী কমিশনার এএসএম আব্দুর রউফ শিবলু , ব্র্য্যাক প্রতিনিধি ম্যাক্সিমিলান রুগা, ইম্প্যাক্টের ফিল্ড অর্গানাইজার মিজানুর রহমান, আদ-দ্বীনের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আব্দুল হান্নান, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক জহির রায়হান, জাগরণী চক্রের এরিয়া ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান, জামান সোসাল ডেভেলমেন্ট ফাউন্ডেশন এরিয়া ম্যানেজার আব্দুস সালাম, প্রত্যাশার সহ-সমন্বয়কারী আতিয়ার রহমান, আর্স বাংলাদেশের শাখা ব্যবস্থাপক হাসান সাঈদ, ব্যুরো বাংলাদেশের শাখা ব্যবস্থাপক শরিফুজ্জামান, পাসের নির্বাহী পরিচালক ইলিয়াস হোসেন, পলাশীপাড়া সমাজকল্যান সমিতির সহকারী পরিচালক বজলুর রশীদ, রিসোর ম্যানেজার মতিয়ার রহমান, সৃষ্টির নির্বাহীর পরিচালক নাজিম উদ্দীন, টিএমএসএ’র এরিয়া ম্যোনেজার মিজানুর রহমান, সুবর্ণ মানব কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মিম্মা সুলতানা মিতা এবং পদক্ষেপের ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার সোহেল রানাসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।