স্টাফ রিপোর্টার
রমজানের প্রথম দিনেই ইফতারের বাহারি আয়োজন নিয়ে জমে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার ইফতার বাজার। শহরের বিভিন্ন জায়গায় দোকানিরা নানা স্বাদের সুস্বাদু ইফতার সামগ্রী নিয়ে বসেছেন, যা ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। রমজানকে ঘিরে স্থায়ী হোটেল, রেস্তোরাঁর পাশাপাশি অনেকে অস্থায়ী দোকানও গড়ে তুলেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দোকান ও রেস্টুরেন্টে ১৫ থেকে ২০টি আইটেমের ইফতার সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে কিছু রেস্টুরেন্ট এতে আরও বৈচিত্র্য এনেছে। শহরের বড়বাজার, কোর্টমোড়, একাডেমি মোড় ও রেল বাজারের মতন জায়গা গুলোতে স্থায়ী হোটেলের পাশাপাশি রাস্তার পাশেই পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। তাতে ক্রেতারাও আকৃষ্ট হচ্ছেন বেশ।
চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলগেট সংলগ্ন সরকারী খাদ্য গুদামের বিপরীতে কয়েকটি হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশেই কাঁচের বাক্সের মধ্যে রেখে বিক্রি হচ্ছে বাহারি সব ইফতার সামগ্রী। বিকাল ৪টা থেকে ইফতার শুরুর আগ পর্যন্ত দোকান থেকে ইফতারি কিনেছেন রোজাদারেরা। আলুর চপ, ডিমের চপ, মাংসের চপ, বেগুনী, মুড়ি, নিমকি, ছোলার ঘুগনি, খেজুর, বুন্দিয়া, লেবু, কলা ও তেহারি কিনতে দোকানটিতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
ইফতার বিক্রেতা শাকিল আহমেদ বলেন, আজ রমজানের প্রথম দিনেই ভালই সাড়া পাচ্ছি। প্রতিবছরই আমরা এখানে ইফতার বিক্রয় করে থাকি। চুয়াডাঙ্গার ক্রেতা সাধারণ আমাদের কাছ থেকে প্রতিবছর ইফতার ক্রয় করে থাকেন। আমাদের এখানকার ইফতারি বেশ মানসম্পন্ন। বেলা তিনটা থেকেই আমাদের এখানে ইফতার বিক্রয় শুরু হয়। টানা এই রমজানের একমাস এভাবে ইফতার বিক্রয় করব আমরা। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ইফতার তৈরি করে থাকি এবং দামেও সাশ্রয়ী।
ইফতার কিনতে আসা সজীব হোসেন বলেন, পবিত্র রমজান মাসে সড়কের পাশে এরকম ইফতার দোকান দেখতেও ভালো লাগে। এমনিতে সচরাচর বাড়িতে ইফতারি বানায় তবে কিছু কিছু আইটেম দোকান থেকে ক্রয় করি। আজকে আমি এখান থেকে মাংসের চপ ও বেগুনি কিনতে এসেছি। প্রতিবছরই এখান থেকে ইফতার ক্রয় করা হয়। এসকল ইফতার বেশ সুস্বাদু হয়ে থাকে। দোকান থেকে ইফতার ক্রয় করে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা মিলে একসাথে ইফতারি করাতেই যেন বেশি আনন্দ।
সড়কের পাশেই খুচরা ফল বিক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফলের বেচাকেনা বেশ বেড়েছে। আমরা দেখি ইফতারিতে সকলেই কিছু ফলের আইটেম রাখেন। দেশি ফল ও বিদেশি ফল উভয়েরই চাহিদা রয়েছে ইফতারিতে। রমজান উপলক্ষে ফলের দাম একটু বাড়লেও ক্রেতাদের মধ্যে চাহিদা রয়েছে বেশ। আমরাও চেষ্টা করি রমজান উপলক্ষে ক্রেতাদেরকে ভালো ফলটা দেওয়ার জন্য। যাতে রোজাদারেরা ইফতারিতে ভালো ফলটি দিয়ে ইফতার সারতে পারেন।
চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায় ফলের দোকান, ইফতারের দোকান এবং মিষ্টান্ন ভান্ডার গুলোতেও ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মিষ্টান্ন ভান্ডারগুলোতে তারা মিষ্টি, জিলাপী ও দই কেনার জন্য ভিড় করেছেন। তবে সকল রোজাদারেরাই বলেছেন, যে যেখান থেকেই ইফতার ক্রয় করিনা কেন পরিবারের সাথে ইফতার করার মধ্যেই প্রকৃত আনন্দ খুঁজে পাওয়া যায়। যে সকল ইফতারগুলো বাড়িতেই তৈরি করা হয় সেগুলোর স্বাদও অনন্য। ক্রয় করা ইফতারের থেকে বাড়িতে তৈরি ইফতার গুলোই বেশি স্বাস্থ্যকর বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতারা।
রমজানের প্রথম দিনে চুয়াডাঙ্গায় বিভিন্ন দোকানে বাহারী রকমের ইফতারের সমাহার



