দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে জীবননগরে ভোটারদের মাঝে ছিল বাড়তি উৎসাহ

জীবননগর অফিস
স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো সরাসরি সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন জীবননগরবাসী। সকাল থেকেই উপজেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ছিল চোখে পড়ার মতো উপস্থিতি। অনেকেই সকাল সাড়ে ৭টার আগেই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন।
ভোটকে কেন্দ্র করে এলাকায় যেন ঈদের উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। ভোট দিয়ে বের হওয়া ভোটারদের চোখেমুখে ছিল তৃপ্তি ও প্রশান্তির ছাপ। তীব্র রোদ উপেক্ষা করেও নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায় বিভিন্ন কেন্দ্রে। দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে ভোটারদের মাঝে ছিল বাড়তি উৎসাহ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। অনেকের মতে, “ভোট বাঙালির একটি উৎসব”— এবারের নির্বাচন তারই প্রমাণ দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোটগ্রহণের প্রথম ঘণ্টায় জীবননগর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ১৮% এবং জীবননগর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১৪% ভোট পড়েছে। বেলা ১২টায় কর্ন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৯.৬৩%, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে হাসাদাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪৫.৯৯% ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। বেলা ১২টা ৪৮ মিনিটে কাটাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৬.৪৪%, দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে বালিহুদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৬.৩১% এবং ১টা ৫০ মিনিটে রায়পুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৫.৬২% ভোট পড়ে। দুপুর ২টায় শাহপুর ও আন্দুলবাড়ীয়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৩%, ২টা ৫ মিনিটে কর্চাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৮.১৮% এবং ২টা ৩০ মিনিটে আন্দুলবাড়ীয়া বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৩% ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কর্মকর্তাদের কিছুটা হিমশিম খেতে হলেও সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।
ভোটারদের ভাষায়, এমন প্রাণবন্ত ভোট অনেক দিন দেখিনি। এই দিনের কথা দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।