আলমডাঙ্গায় ১১ দলীয় জোট প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেলের সমর্থনে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আলমডাঙ্গা অফিস
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আলমডাঙ্গা-চুয়াডাঙ্গা-১ সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর সমর্থনে আলমডাঙ্গায় বিশাল গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৫টায় আলমডাঙ্গা এটিএম মাঠ থেকে মিছিলটি বের হয়ে বাবুপাড়া, স্টেশন রোড, স্বাধীনতা চত্বর ও হাইরোড হয়ে হাজী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ এ মিছিলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।
এর আগে বিকেল ৩টায় এটিএম মাঠে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আলমডাঙ্গা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর সফিউল আলম বকুলের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সেক্রেটারি মামুন রেজার সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের জেলা সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, আমি এই আলমডাঙ্গার সন্তান এখানেই বড় হয়েছি। আমি কোনো নেতা হিসেবে নয়, আপনাদের সন্তান হিসেবে থাকতে চাই। আপনারা জানেন চুয়াডাঙ্গা জেলা একটি অবহেলিত জেলা। আমি যদি নির্বাচিত হয়ে আসতে পারি তাহলে সি-ক্যাটাগরির জেলা থেকে এ-ক্যাটাগরির জেলায় রূপান্তরিত করবো।
তিনি আরও বলেন, আমি একজন কৃষকের সন্তান। তাই সবার আগে সারের সিন্ডিকেট ভেঙে দিব, কথা দিচ্ছি বাজার ব্যবস্থাপনায় কোন সিন্ডিকেট থাকবে না । একই সঙ্গে মাদকের থাবা থেকে এই জেলাকে রক্ষা করবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি উন্নত চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা গড়ে তুলতে চাই। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এছাড়াও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি ভোটারদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ গরিব রাষ্ট্র নয়, বরং গরিব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। দেশের সম্পদ সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব। নির্বাচিত হলে এ আসনে একটি মেডিকেল কলেজ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ ২৫০ শয্যার জনবল ও উপকরণ দিয়ে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।
এছাড়াও  কুমার নদ খনন, চিকিৎসার জন্য মা ও শিশু হসপিটাল স্থাপন,  হিন্দু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ সকল ধর্মের মানুষকে সাথে নিয়ে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ জেলা গড়ে তুলবো। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অঙ্গীকার করছে ৩৫তম অর্থনীতি দেশ থেকে আগামী পাঁচ বছরে ২০ তম অর্থনীতির দেশে রুপান্তরিত করবে এবং তা আপনাদের সাথে নিয়ে । পাশাপাশি এই জেলার বিপুল জনশক্তিকে  জনসম্পদে রূপান্তরিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন— আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মোল্লা মো. ফারুক এহসান, নির্বাচনী পরিচালক নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু, জামায়াতের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আলতাফ হোসাইন, জেলা শ্রমিক কল্যাণ বিভাগের সভাপতি কাইমুদ্দিন হিরোক, সাবেক জেলা আমীর আনোয়ারুল হক মালিক, আইনবিষয়ক সম্পাদক দারুস সালাম, খেলাফত মজলিসের খুলনা বিভাগীয় সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জেলা ইউনিট সদস্য অ্যাডভোকেট মুসলিম উদ্দিন, আলমডাঙ্গা পৌর আমীর মাহের আলী, সেক্রেটারি মসলেম উদ্দিন, গাংনী-আসমানখালী আমীর আব্বাস উদ্দিন, হাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে গণমিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।